আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার

সরকারি বিধি মেনেই পে-অর্ডার অবমুক্তি, দাবি সাব-রেজিস্ট্রারের

এফএনএস (সৌরভ অধিকারী শুভ; শেরপুর, বগুড়া) : | প্রকাশ: ১ আগস্ট, ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম
সরকারি বিধি মেনেই পে-অর্ডার অবমুক্তি, দাবি সাব-রেজিস্ট্রারের

বগুড়ার শেরপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে একটি জমির পে-অর্ডার অবমুক্তিকে কেন্দ্র করে ২০ লাখ ১৪ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন খণ্ডকালীন সাব-রেজিস্ট্রার নাঈমা সিদ্দিকা। তাঁর দাবি, পে-অর্ডার অবমুক্তির পুরো প্রক্রিয়া সরকারি বিধি, প্রচলিত আইন ও ব্যাংকিং নিয়ম অনুসরণ করেই সম্পন্ন হয়েছে। অর্থ পরিশোধ বা পে-অর্ডার নগদায়নের ক্ষমতা ব্যাংকের নিজস্ব বিধিবদ্ধ প্রক্রিয়ার আওতাধীন। ব্যক্তিগতভাবে তাঁর কোনো অর্থ অবমুক্ত করার এখতিয়ার নেই।

সাব-রেজিস্ট্রি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সরকারি কোডে ই-চালানের মাধ্যমে জমা হওয়া অর্থ ব্যাংক থেকে সরাসরি ফেরত নেওয়ার সুযোগ নেই। কোনো কারণে দলিল নিবন্ধন সম্পন্ন না হলে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে আবেদন করতে হয়। তিনি যাচাই-বাছাই শেষে প্রত্যয়ন দিলে জেলা রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে আবেদন ট্রেজারি বা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে পাঠানো হয়। সরকারি অনুমোদন পাওয়ার পরই রিফান্ডের অর্থ ফেরত দেওয়া হয়।

জানা গেছে, উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের খন্দকারটোলা মৌজার ৩২৮ শতক জমি কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে কয়েকজন ক্রেতার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ-সংক্রান্ত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২২ জুলাই শেরপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে উভয় পক্ষকে তদন্তের জন্য ডাকা হয়।

এর আগে একই জমির নিবন্ধনকে কেন্দ্র করে পে-অর্ডার অবমুক্তিতে অনিয়ম এবং ২০ লাখ ১৪ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খণ্ডকালীন সাব-রেজিস্ট্রার নাঈমা সিদ্দিকার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন ক্রেতা সাদিকা খানম।

অভিযোগে বলা হয়, ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ৩২৮ শতক জমি নিবন্ধনের জন্য ৪২ লাখ ৫০ হাজার টাকার আটটি পে-অর্ডার জমা দেওয়া হয়েছিল। তবে আইনি জটিলতার কারণে সেদিন দলিল নিবন্ধন সম্পন্ন হয়নি। পরে ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি ৬ লাখ ৭১ হাজার টাকার একটি এবং ৭ মে প্রায় ১৩ লাখ ৪৩ হাজার টাকার আরেকটি পে-অর্ডার অবমুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে ক্রেতার আমমোক্তার মো. নূর আলম শাকিল অবশিষ্ট পে-অর্ডার নগদায়ন বন্ধ রাখতে সাব-রেজিস্ট্রার ও সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন।

শেরপুর সোনালী ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপক মাহবুবুল আলম বলেন, সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে প্রয়োজনীয় অবমুক্তির পর ব্যাংক প্রচলিত নিয়ম অনুসারে দুটি পে-অর্ডারের অর্থ পরিশোধ করেছে। পরে আরও দুটি পে-অর্ডার নগদায়নের চেষ্টা হলে তা স্থগিত রাখা হয়।

অভিযোগে নাম আসা দলিল লেখকের সহকারী সামছু হোসেনও আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি এ বিষয়ে শেরপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে দেওয়া এক ভিডিও বক্তব্যে বলেন, প্রায় তিন থেকে চার মাস আগে সমিতির সাবেক সভাপতি এস. এম. ফেরদৌস আলমের অনুরোধে তিনি সোনালী ব্যাংকে গিয়ে পে-অর্ডারে সাক্ষর করেন। পরে মাসুদ, আরিফ ও শাকিল তাঁকে ব্যাংকে নিয়ে যান। সেখানে ১৩ লাখ ৪২ হাজার ৯৫০ টাকার একটি পে-অর্ডার ভাঙিয়ে নগদ অর্থ তাঁদের হাতে তুলে দেন। এর আগে ৬ লাখ ৭১ হাজার টাকার আরেকটি পে-অর্ডারের অর্থ তানিয়া আক্তার ও জাহিদের হাতে বুঝিয়ে দেন বলে দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে আমমোক্তার মো. নূর আলম শাকিল বলেন, "কে টাকা নিয়েছে, সেটা রেজিস্ট্রি অফিস কর্তৃপক্ষ জানে। আমাকে এ ঘটনায় জড়ানো হচ্ছে। অফিস টাকা দেওয়ার আগে মূল মালিকের সঙ্গে কথা বলতে পারত, কিন্তু তা করেনি। আমি তাদের ভগ্নিপতি হওয়ায় আমাকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে।" এ বিষয়ে সমিতির সাবেক সভাপতি এস. এম. ফেরদৌস আলম এবং অফিসে কর্মরত জাহিদের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পে-অর্ডার অবমুক্তির আইনি প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে খণ্ডকালীন সাব-রেজিস্ট্রার নাঈমা সিদ্দিকা বলেন, সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সরকারি কোডে পে-অর্ডারের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ পরবর্তী কর্মদিবসে ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়। সরকারি অর্থ যাতে কেউ আত্মসাৎ করতে না পারে, সে জন্য ব্যাংকের নিরাপত্তার স্বার্থে পে-অর্ডার ভাঙানোর সময় সাব-রেজিস্ট্রারের প্রতিস্বাক্ষর নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল। ব্যাংক তাদের নিজস্ব বিধি অনুযায়ী কাজ করেছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারি অর্থ তসরুপের অভিযোগটি বর্তমানে তদন্তাধীন। তদন্তের স্বার্থে একজন সরকারি কর্মচারী হিসেবে আমি যথাযথ দায়িত্ব পালন করছি। আমার বিরুদ্ধে আনা আত্মসাতের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। প্রয়োজন হলে যেকোনো তদন্তে আমি পূর্ণ সহযোগিতা করব।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে