বনানীর প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা জাহিদুল ইসলাম পারভেজ হত্যা মামলায় অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বাদীপক্ষের নারাজির আবেদনের শুনানি শেষে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ, সিআইডিকে দিয়েছেন। আগামী ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ আবজাল হোসেন মৃধার শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন-অর-রশীদ আদালতের আদেশের বিষয়টি জানিয়েছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৯ এপ্রিল বিকেল ৪টার দিকে বনানীতে প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ ও টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। একপর্যায়ে ইংরেজি বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর ছুরিকাঘাতে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম পারভেজ নিহত হন।
পারভেজের বয়স ছিল ২৪ বছর। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর বাড়ি ময়মনসিংহের ভালুকায়। বাবা জসিম উদ্দিন কুয়েতপ্রবাসী চাকরিজীবী। মা-বাবার একমাত্র ছেলে ছিলেন পারভেজ।
হত্যাকাণ্ডের পরদিন বনানী থানায় মামলা করেন পারভেজের মামাতো ভাই হুমায়ন কবীর। মামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বনানী থানা ইউনিটের যুগ্ম সদস্য সচিব মারুফ মিয়াজি হৃদয় এবং বনানী থানার যুগ্ম আহ্বায়ক সোবহান নিয়াজ তুষারসহ আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার তদন্তে দুই তরুণীর নামও আসে। আদালতের নির্দেশে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ এবং রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
তদন্ত শেষে বনানী থানার পরিদর্শক এ কে এম মঈন উদ্দিন মোট নয়জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়েছে মেহেরাজ ইসলাম, আবু জহর গিফফারি ওরফে পিয়াস, মো. মাহাথির হাসান, মো. আল কামাল শেখ ওরফে কামাল, আলভী হোসেন জুনায়েদ, আল আমিন সানি, ফাতেমা তাহসিন ঐশী, ফারিয়া হক টিনা ও রাকিবকে।
অভিযোগপত্রে পিয়াস, ঐশী ও রাকিব পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে সোবহান নিয়াজ তুষার, মারুফ মিয়াজি হৃদয়, রিফাত, আলী, ফাহিম, সাকিব, নাসিম ও নিবিড়কে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা এ কে এম মঈন উদ্দিন বলেন, অব্যাহতির সুপারিশ করা আটজনের মধ্যে চারজনের বিরুদ্ধে ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আর বাকি চারজন জড়িত থাকলেও তাদের পূর্ণাঙ্গ নাম ও ঠিকানা পাওয়া যায়নি।
তবে পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রে সন্তুষ্ট নয় পারভেজের পরিবার। মামলার বাদী হুমায়ুন কবীর অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করেন।
হুমায়ুন কবীর বলেন, “যারা খুনি তাদের অনেককে অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। মনে হচ্ছে, পুলিশ আসামিদের বাঁচানোর একটা চেষ্টা করছে। অভিযোগপত্রে আমরা সন্তুষ্ট না। এর বিরুদ্ধে আমরা নারাজি দেব।”
বাদীপক্ষের ওই আবেদনের শুনানি শেষে মঙ্গলবার আদালত মামলাটি সিআইডিকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। আগামী ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।