প্রবাসীর অর্থায়নে নাসিরনগরে মসজিদে সুলাইমান এর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন

এফএনএস (আক্তার হোসেন ভূইয়া; নাসিরনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া) : | প্রকাশ: ৪ আগস্ট, ২০২৬, ০৪:৪৪ পিএম
প্রবাসীর অর্থায়নে নাসিরনগরে মসজিদে সুলাইমান এর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে মালয়েশিয়া প্রবাসী গোকর্ণ গ্রামের কৃতি সন্তান হাফেজ হুসাইন আহমাদ এর অর্থায়নে নতুন মসজিদে  সুলাইমান এর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে।সোমবার মাগরিব নামাজের পর গোকর্ণ দক্ষিণ বেড়িবাধ সংলগ্ন নতুন জামে মসজিদ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন উপলক্ষে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয় । বরুনা মাদ্রাসার শায়খুল হাদিস মাওলানা মুফতি ওলিউর রহমান হামিদী বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে আকর্ষনীয় এ মসজিদে সুলাইমানের কাজ শুরু হয় । এতে প্রধান অতিথি ছিলেন  ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ নাসিরনগর আসনের সংসদ সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি এমএ হান্নান ।

এ সময় এমপি বলেন, জনসেবাকে ইবাদত মনে করে জনগণের জন্য কাজ করতে হবে। এই মসজিদ শুধু নামাজের জায়গা নয় বরং ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তিনি  মালয়েশিয়া প্রবাসী গোকর্ণ গ্রামের কৃতি সন্তান হাফেজ হুসাইন আহমাদের এই মহতী উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জানান।

মসজিদে  সুলাইমানের প্রতিষ্ঠাতা মালয়েশিয়া প্রবাসী  হাফেজ হুসাইন আহমাদের সভাপতিত্বে হাফেজ মাওলানা খোবাইব আহমাদের সঞ্চালনায়  উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে  বিশেষ

অতিথি ছিলেন  গোকর্ণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান  সৈয়দ শাহীন, মাওলানা মাহবুবুর রহমান,মাওলানা আব্দুল আওয়াল,মাওলানা রায়হান আহমদ শরীফী,উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি একে এম খালেদ । এসময়  হ‍্যালো সাইফুলের সত্ত্বাধিকারী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ এলাকার জনপ্রতিনিধি,আলেম উলামাগণ, মসজিদ নির্মাণ প্রকৌশলী,মসজিদে সুলাইমানের নিয়োগ প্রাপ্ত ইমাম ও খতিব এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, মসজিদে সুলাইমানের প্রতিষ্ঠাতা নাসিরনগর উপজেলার গোর্কণ গ্রামের কৃতি সন্তান হাফেজ হুসাইন আহমাদ মালয়েশিয়ায় শ্রমিক থেকে শিল্পপতি হয়েছেন । ২০০৮ সালে পিতার রেখে যাওয়া শেষ সম্বল জমি বিক্রি করে স্বচ্ছলতার আশায় কলিং ভিসায় গোকর্ণ গ্রামের যুবক হাফেজ হুসাইন আহমাদ পাড়ি জমান মালয়েশিয়ায়। পবিত্র কোরআনের ৩০ পাড়া বুকে ধারন করে ও কওমি মাদ্রাসা থেকে শিক্ষা গ্রহন করে প্রথম পেশা শুরু করেন মসজিদের ইমামতি। কিন্তু অদম্য হাফেজ হুসাইন মালয়েশিয়ায় গিয়ে প্রথমে কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও কিছুদিন পর ব্যবসায় ইনভেস্ট করা শুরু করেন। তারপর কখনো হয়েছেন প্রতারণার শিকার,কখনো আবার প্রতিপক্ষের রেষামলে পড়ে হারিয়েছেন সর্বস্ব।এতদ সত্ত্বেও তিনি মনোবল হারান নি,বরং বার বার ঘুরে দাড়িয়েছেন দৃঢ়তার সাথে। হার না মানা অদম্য হুসাইন দীর্ঘ ১ যুগ পর  আলোর  দেখা পেয়ে কারখানার শ্রমিক থেকে আজ প্রতিষ্ঠিত হলেন শিল্পপতি হিসেবে । তিলে তিলে মালয়েশিয়ায় গড়ে তুলেন ৫ হাজার বাংলাদেশী রেমিট্যান্স যোদ্ধার কর্মসংস্থানের দৃষ্টান্ত “উই ওয়ান এগ্রো গ্রুপ অব কোম্পানি”। তিনি সেখান থেকে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে নিজ এলাকা গোর্কণে গড়ে তুলছেন মসজিদ মাদ্রাসাসহ সামাজিক দাতব্য প্রতিষ্ঠান।

কওমি মাদ্রাসা থেকে শিক্ষা গ্রহন করে হাফেজ হুসাইন আহমাদ এমন কিছু করার পরিকল্পনা করেছেন ,যা শুধু দূনিয়াবী কাজে নিজেকে সীমাবদ্ধ না রেখে আখরাতের জন্যেও তার কৃত কর্মের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। এই লক্ষ্য  বাস্তবায়নের জন্য মসজিদ সুলাইমান ও মাদ্রাসা কমপ্লেক্স  নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন বলে তিনি জানিয়েছেন । এতে ব‍্যয় হবে ২০ থেকে ২৫ কোটি  টাকা। যা তাঁর নিজস্ব অর্থায়নে  মসজিদ সুলাইমান ও মাদ্রাসা কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে