রাজশাহীর তানোরে প্রতিষ্ঠানের ভবন উদ্বোধনে স্থানীয় এমপিকে উপেক্ষা করায় সকালে জামায়াতের প্রতিবাদ মিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। একই দিন দুপুরে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি নবনির্মিত ভবনে ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন।
মঙ্গলবার উপজেলার কৃষ্ণপুর মোড়ে জামায়াতের প্রতিবাদ মিছিল ও দুপুরে বিএনপির নারী এমপি ওই এলাকায় ভবন উদ্বোধন করেছেন। উভয়দলের এসব কর্মসূচি নিয়ে রাজনীতির মাঠে নানা ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তবে, কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সব অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণ শেষ হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেল তিনটার দিকে উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের ভবন নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। এউপলক্ষ্যে কলেজ মাঠে আলোচনাসভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান এবং ভূরিভোজের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন- জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবিবা। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্য দেন, নেসকোর চেয়ারম্যান ও গোদাগাড়ী-তানোর বিএনপির কর্ণধর মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীন।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সারোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে ছিলেন- উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আখেরুজ্জামান হান্নান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মফিজ চেয়ারম্যান, কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আতাউর রহমান, অত্র কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সহকারী অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক গোলাম মর্তুজা ও সদস্য সচিব শরীফ উদ্দীন মুন্সি প্রমুখ।
এরআগে কয়েলহাট ডিগ্রি কলেজের নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি। শেষ বিকেলের দিকে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন তিনি।
এদিকে, জনগণের ভোটে নির্বাচিত জামায়াতের এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমানকে উপেক্ষা করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করার প্রতিবাদে সকাল ৯টার দিকে কৃঞ্চপুর মোড়ে উপজেলা জামায়াতের আয়োজনে প্রতিবাদ মিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
এরআগে সোমবার বিকেলের দিকে তানোর পৌরসদরে প্রতিবাদ মিছিল করে জামায়াত। পথসভায় জামায়াত নেতারা দাবি করেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত এমপিকে উপেক্ষা ও অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। এটা দলীয় সভা নয়। উন্নয়ন মূলক কাজে স্থানীয় এমপির অর্গ্রাধিকার। কিন্তু এমপিকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভবন উদ্বোধনের আয়োজন করলেও দলীয় ভাবেই সবকিছু করা হচ্ছে। আমরা বিরোধীদলে থাকলেও উন্নয়ন কর্মকান্ডের অংশীদার। সুতরাং এখানে বৈষম্য করা হয়েছে। এধরণের বৈষম্য করা হলে আগামীতে প্রতিবাদের মাধ্যমে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
সরেজমিনে দুপুরের দিকে দেখা যায়, কৃষ্ণপুর কলেজের মুল গেট দিয়ে প্রবেশ করতেই ডান পার্শ্বের ছোট পুকুরে পাড়ে রান্নার হাড়ি ভাসছে, আরো কয়েকটি পুকুর পাড়ে আছে, দুটিতে আগুন জলছে। সকাল থেকে প্রায় দশটার মত চুলা জালানো হয়েছিল। কলেজের অর্থায়নে প্রায় ৩৫০ থেকে ৪০০ জন লোক খাওয়ানে হবে।
এবিষয়ে কোয়েলহাট কলেজের অধ্যক্ষ মিজানুর রহমানকে একাধিক বার ফোন দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
কৃষ্ণপুর মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সারোয়ার হোসেনের সাথে কথা বলে এসব বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কলেজের ম্যানিজিং কমিটির মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয়, সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি মাহমুদা হাবিবাকে দিয়ে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা লাগবে। এটা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সিদ্ধান্ত। সুতরাং এখানে বিএনপির এমপি আসবেন এটাই স্বাভাবিক। স্থানীয় এমপিকে বলা হয়নি কেন জানতে চাইলে তিনি কোন সদ উত্তর দেননি। এতো লোকের খাবারের আয়োজন দলীয়ভাবে নাকি কলেজের অর্থে জানতে চাইলে দাম্ভিকতা দেখিয়ে তিনি বলেন, কলেজের অর্থেই তাতে কি হয়েছে বলে এড়িয়ে গেছেন তিনি।
কলেজের ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সহকারী অধ্যাপক মুজিবুর রহমান জানান, তিনিও সরকারি দলের সংরক্ষিত এমপি। তারা বিরোধী দলের। আমরা সরকারি দলের। এজন্য এটা এভাবে করা হয়েছে।
দুপুরের দিকে তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাঈমা খানের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এসব বিষয় আমার অজানা। খোঁজখবর নিয়ে আসল ঘটনা বলতে পারব বলে জানান। ই/তা