লক্ষ্ণীপুরে সন্দেহভাজন চোর আটক করেও ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ

এফএনএস (নিজস্ব প্রতিবেদক) : | প্রকাশ: ৮ আগস্ট, ২০২৬, ০৪:২৪ পিএম
লক্ষ্ণীপুরে সন্দেহভাজন চোর আটক করেও ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ

লক্ষ্ণীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে এক প্রবাসীর মানিব্যাগ ও নগদ ১ হাজার ৭০০ টাকা চুরির অভিযোগ উঠেছে। পরে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারী আটক করলেও তাকে পুলিশের হাতে না দিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, আটক ব্যক্তি তাদের কাছ থেকে দৌড়ে পালিয়ে যায়।

শনিবার সকালে ছয় বছরের শিশু তন্বীকে চিকিৎসা করাতে লক্ষ্ণীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার প্রবাসী শ্যামল। হাসপাতালের পাঁচ টাকার টিকিট কাটার সময় তার পকেট থেকে মানিব্যাগ ও নগদ ১ হাজার ৭০০ টাকা নিয়ে যায় চোরচক্রের সদস্যরা-এমন অভিযোগ করেন তিনি।

ঘটনার পর হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারী সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে আটক করেন। তবে কিছুক্ষণ আটকে রাখার পর তাকে পুলিশের হাতে তুলে না দিয়ে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

ভুক্তভোগী শ্যামল বলেন, শিশুকে চিকিৎসা করাতে হাসপাতালে এসে তিনি চুরির শিকার হয়েছেন। চুরি হওয়া টাকা ও মানিব্যাগ উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। 

রোগী ও স্বজনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল এলাকায় দালাল ও চোরচক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।                                                                                   স্থানীয়দের অভিযোগ, লক্ষ্ণীপুর সদর হাসপাতালে প্রায়ই রোগী ও স্বজনদের টাকা, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র চুরির ঘটনা ঘটে। এমনকি কখনো কখনো ওয়ার্ড থেকেও রোগীর ওষুধ চুরির অভিযোগ পাওয়া যায়। এসব ঘটনায় হাসপাতালের নার্স, আয়া ও আউটসোর্সিংয়ের কর্মীদের কেউ কেউ জড়িত থাকতে পারেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালসংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, হাসপাতালকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দালাল ও চোরচক্রের তৎপরতা রয়েছে। তাদের দাবি, বর্তমানে হাসপাতালকেন্দ্রিক প্রায় অর্ধশত দালাল ও চোর সক্রিয়। অভিযোগ রয়েছে, দালালরা প্রতিদিন হাসপাতালে জৈনকে ৩০০ টাকা এবং দারোয়ানকে ২০০ টাকা দিয়ে হাসপাতালে প্রবেশ করে। চিহ্নিত চোরদের কাছ থেকেও নিয়মিত অর্থের ভাগ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

তাদের আরও অভিযোগ, ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিরা অনেক সময় এসব চক্রের সদস্যদের চিনলেও বাড়তি সুবিধার কারণে কার্যকর ব্যবস্থা নেন না। মাঝেমধ্যে দু-একজনকে আটক করা হলেও চিহ্নিত অনেকেই থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ভিন্ন। হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে তারা আটক করেছিলেন। তবে সে তাদের কাছ থেকে দৌড়ে পালিয়ে যায়।

সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) অরূপ চন্দ্র পাল বলেন, বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছিল। পুলিশ এসে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে নেওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে হাসপাতালের কয়েকজন তাকে ছেড়ে দিয়ে থাকলে বিষয়টি দুঃখজনক।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে