মাংস কম দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিয়ে বাড়িতে মারামারি, আহত ৩

এফএনএস (নিজস্ব প্রতিবেদক) :
| আপডেট: ৮ আগস্ট, ২০২৬, ০৪:৫৮ পিএম | প্রকাশ: ৮ আগস্ট, ২০২৬, ০৪:৫৮ পিএম
মাংস কম দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিয়ে বাড়িতে মারামারি, আহত ৩

লক্ষ্ণীপুরের রায়পুরে বিয়েবাড়িত অতিথিদের মাংস কম দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বরপক্ষ ও কনেপক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের তিনজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার কেরোয়া ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। ছব্বির,মাকসুদ, রাশেদ, তাছলিমাসহ কয়েকজন জানান, বিয়েবাড়ি মানেই আনন্দ, হাসি আর উৎসব।স্বজন-অতিথিদের নিয়ে আনন্দে কাটার কথা পুরো আয়োজন।কিন্তু খাবার পরিবেশনকে কেন্দ্র করে সেই আনন্দের আয়োজনই মুহূর্তে রূপ নেয় উত্তেজনায়।

তাদের মতে একটু খাবার নিয়ে শুরু হওয়া কথা-কাটাকাটি যে এতটা দূর গড়াবে, তা হয়তো কেউই ভাবেননি। একটি আনন্দের বিয়ের আয়োজন শেষ পর্যন্ত তিনজনের আহত হওয়ার ঘটনায় পরিণত হওয়ায় স্বজনদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে হতাশা ও আক্ষেপ।                                                                                                                                                                                                                                                                                                           

স্থানীয়রা জানান, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর অতিথিরা খাবার খেতে বসেন। এ সময় খাবার পরিবেশনের একপর্যায়ে মাংস কম দেওয়া হয়েছে-এমন অভিযোগ তোলেন বরপক্ষের একজন। বিষয়টি নিয়ে কনেপক্ষের লোকজনের সঙ্গে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে উত্তেজনা বাড়তে থাকলে একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও মারামারিতে গড়ায়। এতে আহত হন তিনজন। আহতরা হলেন-কনেপক্ষের বেলাল হোসেন (৪০) ও মো. শাহিনুর (৪০) এবং বরপক্ষের মো. ইয়াসিন (২২)।

 ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসা নেওয়ার পর দুজন বাড়ি ফিরলেও বেলাল হোসেনের অবস্থা বিবেচনায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লক্ষ্ণীপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) মামুনুর রশিদ বলেন, বিয়েবাড়িতে মারামারির ঘটনায় তিনজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে দুজন চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লক্ষ্ণীপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

কনের বাবা ( নাম প্রকাশ না করা শর্তে)  বলেন, খাবার নিয়ে প্রশ্ন তোলাকে কেন্দ্র করে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে মারামারি হয়। তিনি দুই পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেছেন। খাবার পরিবেশনের আগেই বর ও কনের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল। তাঁর মেয়ে বর্তমানে তাঁর বাড়িতেই আছেন। আনন্দের এই দিনে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় তাঁরা বিব্রত।

এদিকে ঘটনার পর দুই পক্ষের মধ্যে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ঘটনাটি তাঁরা জেনেছেন। তবে এ ঘটনায় দুই পক্ষের কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। বিষয়টি দুই পক্ষ স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করবেন বলেও তিনি শুনেছেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে