বরিশালের মুলাদী উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের চরমালিয়া, ভেদুরিয়া ও কায়েতমারা এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে সেকান্দর চৌধুরী (সেকা চৌধুরী) খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
নদীবেষ্টিত মুলাদী উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের চরমালিয়া এলাকায় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও এবতেদায়ী মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে আশপাশের এলাকার বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে যাতায়াতের পথে সেকান্দর চৌধুরী খালের ওপর নির্মিত সাঁকোটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে খালের পানি বৃদ্ধি পেলে সাঁকো দিয়ে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পরে। তখন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নৌকায় করে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন, মুলাদীর বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ নদীভাঙনসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত। জয়ন্তী নদীর ভাঙনে অনেক পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে আর্থিকভাবে চরম দৈন্যদশার মধ্যে রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ হলে চরমালিয়া, ভেদুরিয়া, কায়েতমারা ও ষোলঘর এলাকার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত সহজ ও নিরাপদ হবে।
স্থানীয়দের দাবি, কোমলমতি শিশুদের নির্বিঘ্নে লেখাপড়ার সুযোগ সৃষ্টি এবং এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে খালের ওপর দ্রুত একটি সেতু নির্মাণ করা জরুরি হয়ে পরেছে।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে বরিশাল-৩ (মুলাদী-বাবুগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্যর কাছে জনগুরুত্বপূর্ণ সেতুটি নির্মাণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন।