সিলেট বিভাগীয় বৃক্ষমেলায় দর্শনার্থী-ক্রেতাদের বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে গ্রীষ্মকালীন জনপ্রিয় বিদেশি ফল রামবুটান। মেলায় রামবুটান গাছটির দাম হাঁকা হচ্ছে এক লাখ টাকা। ফল ধরার মৌসুম হওয়ায় পাকা রসালো ফলসহ গাছটি মেলামাঠে দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।
মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়াকে রামবুটানের আদি উৎপত্তিস্থল হিসেবে ধরা হয়। ফলটি দেখতে অনেকটা লিচুর মতো হলেও এর খোসার ওপর নরম চুলের মতো আবরণ রয়েছে। কাঁচা অবস্থায় ফল সাধারণত সবুজ থাকে এবং পাকলে জাতভেদে লাল, কমলা, হলুদ বা মেরুন রং ধারণ করে। ফলের ভেতরের সাদা বা স্বচ্ছ শাঁস রসালো ও মিষ্টি।
উপযুক্ত পরিবেশে রামবুটান গাছের উচ্চতা ১০ থেকে ১২ মিটার বা তারও বেশি হতে পারে। পূর্ণবয়স্ক একটি গাছ থেকে বছরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ফল পাওয়া সম্ভব। বর্তমানে বাংলাদেশেও রামবুটানের চাষ হচ্ছে। নরসিংদী, নেত্রকোনা, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এ ফলের চাষ করা হচ্ছে।
রামবুটান শুধু দেখতে আকর্ষণীয় নয়, পুষ্টিগুণের দিক থেকেও বেশ সমৃদ্ধ। এতে ভিটামিন ঈ, খাদ্যআঁশ, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম ও আয়রনসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে। ভিটামিন ঈ শরীরের স্বাভাবিক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কার্যক্রমে সহায়তা করে। অন্যদিকে, খাদ্যআঁশ হজমের জন্য উপকারী।
বাংলাদেশে রামবুটানের বাজারদর স্থান, মৌসুম ও মানভেদে পরিবর্তিত হয়। সাম্প্রতিক সময়ে খামার পর্যায়ে কেজিপ্রতি প্রায় ১,০০০ থেকে ১,২০০ টাকা এবং খুচরা বাজারে ১,৪০০ থেকে ১,৫০০ টাকা পর্যন্ত দাম পাওয়ার তথ্য রয়েছে। ফলে উচ্চমূল্যের এ ফল বাণিজ্যিকভাবে চাষের মাধ্যমে কৃষকের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের ফলের বাজারে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
কৃষি-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, বীজ থেকে তৈরি রামবুটান গাছে সাধারণত ৫ থেকে ৬ বছরে ফল আসতে পারে। তবে উন্নত জাতের কলমের চারা ব্যবহার করলে প্রায় ৩ থেকে ৪ বছরের মধ্যেই ফলন পাওয়া সম্ভব। বাংলাদেশে সাধারণত মার্চের দিকে গাছে ফুল আসে এবং জুলাই–আগস্টে ফল পাকে।
উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া রামবুটান চাষের জন্য উপযোগী। পানি নিষ্কাশন ভালো এমন গভীর, উর্বর দো-আঁশ বা বেলে দো-আঁশ মাটিতে এ ফলের ভালো ফলন হয়। মাটির গুণগত মান ভালো হলে ফলনও ভালো হয়। তবে অতিরিক্ত পানি জমে থাকা মাটি রামবুটানের জন্য ক্ষতিকর। দেশে রামবুটানের উৎপাদন বাড়ানো গেলে আমদানিনির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি কৃষকদের জন্য উচ্চমূল্যের নতুন ফল হিসেবে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে সিলেট জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে পক্ষকালব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও সিলেট বিভাগীয় বৃক্ষমেলায় রামবুটান ছাড়াও পাওয়া যাচ্ছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির নানা ধরনের বৃক্ষ। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বৃক্ষ ফিলিপাইনি আর্ক, যার মূল্য ২৫০ থেকে ৬,০০০ টাকা, জাপানের জাতীয় ফল পারসিমনসহ বৃক্ষের মূল্য ৪০ হাজার টাকা, চীনের ভ্যারিগেটেড কাঁঠাল গাছের মূল্য ২৫ হাজার টাকা, দেশি সাতকরা ফলসহ গাছের মূল্য ৫ হাজার টাকা, বড় নাশপাতি ফলসহ গাছের মূল্য ২৫ হাজার টাকা, চালতা ফলসহ গাছের মূল্য ১০ হাজার টাকা, বড় অস্ট্রেলিয়ান ফিঙ্গার লেমন ফলসহ গাছের মূল্য ১০ হাজার টাকা এবং বড় মেলিনা চেরি ফলসহ গাছের মূল্য ৩০ হাজার টাকা।
এছাড়াও মেলার বিভিন্ন স্টলে বনসাই, ক্যাকটাস, ইনডোর প্ল্যান্ট এবং ফুল-ফলসহ নানা জাতের হাজারো বৃক্ষের প্রদর্শনী রয়েছে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ক্রেতা-দর্শনার্থীদের জন্য মেলা উন্মুক্ত থাকছে। মেলা চলবে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত।