খুলনা মহানগরীর লবনচরা থানার আশিবিঘা এলাকায় দুই যুবককে গুলি করে ও কুবিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যা ৬ টার সময় গুলি করে ও ছুরি দিয়ে মঞ্জুরুল ইসলাম(২২) জনৈক যুবককে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। রাত সাড়ে ৯ টার দিকে পূর্ব ঘটনার ৫০০ গজ দূরেই।নাজমিল নামের আর এক যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ পাওয়া যায়। কয়েক ঘন্টার ব্যাবধানে একই স্থানে ২টি হত্যাকান্ডের ঘটনায় এলাকায় মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
নগরীর লবনচোরা থানার অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ মোশাররফ হোসেন এ প্রতিবেদককে জানান, আশিবিঘা এলাকার একটি মাঠে ফুটবল খেলা চলছিল। সেখানে একদল যুবক গিয়ে মঞ্জুরুলকে খুঁজতে থাকে। একপর্যায়ে তারা মঞ্জুরুলের পেটে ছুরি মারে এবং পায়ে গুলি করে দুর্বৃত্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করার চেষ্টা করছে। এ ঘটনার পরপরই এক সন্ত্রাসী ও তার অনুসারীদের নাম আছছে। সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতারে জোর অভিযান অব্যাহত আছে। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, নিহত মঞ্জুরুল ইসলাম উক্ত এলাকার খোকনের পুত্র। সে একজন সেন্টারিং মিস্ত্রী। সে তার পিতার সাথে সেন্টারিংয়ের কাজ করতো।
অপর এক ঘটনায় খুলনা মহানগর পুলিশ সূত্রে জানা যায়, একই এলাকার ৫০০ গজ দূরে একটা গলির ভেতরে জনৈক ব্যক্তির লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারেন নিহত যুবকের নাম নাজমুল।
বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, চলতি আগষ্ট মাসের ১৯ দিনে খুলনা মহানগরীতে ৫ জনকে হত্যা করেছে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। এর মধ্যে গত ১১ আগষ্ট রূপসা উপজেলার নৈহাটি ইউনিয়নের কিসমত খুলনা গ্রামে ইটভাটার মধ্যে ফকরুল শেখ নামে এক যুবদল কর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এর ৪ দিন পর ১৫ আগষ্ট রূপসার আইচগাতী ইউনিয়নের দুর্জনীমহল শহীদের মোড় এলাকায় জয় ঢালী(২৫) নামক জনৈক যুবকে কুপিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়।
গত ১৮ আগষ্ট খুলনা মহানগরীর আড়ংঘাটা থানার রায়েরমহল এলাকায় রাজু শিকদার নামক এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পরিশেষে উদ্ধার হলো আরো দুটো নিষ্পাপ নিথর মরদেহ।