সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের সুনাই নদীতে আগামী ২৮ আগস্ট নৌকাবাইচ আয়োজনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে উত্তেজনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নৌকাবাইচ বন্ধের দাবিকে ঘিরে ‘তৌহিদী জনতা’র অবস্থানের কথা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর বিষয়টি জাতীয় পর্যায়েও আলোচনায় আসে।
এ ঘটনায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের স্থানীয় কয়েকজন নেতার ভূমিকা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সংশ্লিষ্ট নেতারা বলছেন, নৌকাবাইচ বন্ধের পেছনে কোনো ধর্মীয় কারণ নেই। জননিরাপত্তা, নদীভাঙন, সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং কৃষকের ফসলের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থেকেই এলাকাবাসী পরামর্শ সভার আয়োজন করেছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি পোস্টারে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের লাউতা ইউনিয়ন শাখার প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা নুরুর রহমান, বিয়ানীবাজার উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল হক কাসেমী, লাউতা ইউনিয়ন শাখার সভাপতি মাওলানা জালাল উদ্দিন এবং সমাজসেবা সম্পাদক মাওলানা গৌছ উদ্দিনের নাম দেখা যায়। পোস্টারটিতে ‘তৌহিদী জনতা’ নাম ব্যবহার করা হয়েছে।
পোস্টারটি ছড়িয়ে পড়ার পর নৌকাবাইচ বন্ধের দাবির সঙ্গে স্থানীয় জমিয়ত নেতাদের সম্পৃক্ততা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। কয়েকটি সংবাদমাধ্যমও তাদের প্রতিবেদনে ‘তৌহিদী জনতা’র অবস্থানকে সামনে আনে। তবে অভিযোগের বিষয়ে বিয়ানীবাজার উপজেলা জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল হক কাসেমী বলেন, সুনাই নদীর ওই স্থানটি ঝুঁকিপূর্ণ। সেখানে নৌকাবাইচ হলে হাজারো মানুষের সমাগম হয়। এতে দরিদ্র মানুষের ফসলের ক্ষতি, রাস্তা নষ্ট হওয়া এবং নদীভাঙনের মতো সমস্যা তৈরি হতে পারে।
কাসেমী বলেন, অতীতেও নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও নৌকা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এরপূরর্বে একটি গানের আসরকে ঘিরে এক নারীর মৃত্যুদেহও পাওয়া গিয়েছিল। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এলাকাবাসীর উদ্যোগে একটি পরামর্শ সভা করা হয়েছিল। সভায় সাবেক চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন দল ও মতের মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সেখানে কোনো ব্যানার ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।
মাওলানা কাসেমীর অভিযোগ, স্থানীয় একটি পক্ষ ঘটনাটিকে ‘তৌহিদী জনতা’র বিষয় হিসেবে উপস্থাপন করে অন্য সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, মানুষের জানমালের ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে শুধু ঐতিহ্যের দোহাই দিয়ে কোনো আয়োজন করা উচিত নয়। একই সঙ্গে বিষয়টিকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় বিভাজন ও উত্তেজনা তৈরিরও সুযোগ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। এ বিষয়ে বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা মজুমদার বলেন, বিষয়টি জানার পর তিনি খোঁজ নিয়েছেন। প্রতিবছর সুনাই নদীতে নৌকাবাইচ হয়ে আসছে। তবে এবার আয়োজনের বিষয়ে প্রশাসনকে কেউ অবহিত করেনি এবং অনুমতি বা সহযোগিতাও চাওয়া হয়নি।
ইউএনও বলেন, আগে জানানো হলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যেত। নৌকাবাইচ একটি ঐতিহ্যবাহী খেলা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটিকে ধর্মীয় রূপ দিয়ে আলোচনা বা প্রচার করাও ঠিক নয়। প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছে।
অনলাইনে দৃশ্যমান তথ্য অনুযায়ী, সুনাই নদীর নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি নিয়ে ২০ আগস্ট থেকে সংবাদ প্রকাশ শুরু হয়। প্রথম দিকের প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে ‘আগামী প্রজন্ম’-২০ আগস্ট সকাল ৯টা ৬ মিনিটে। এরপর ২১ ও ২২ আগস্ট ‘দিবালোক’, ‘খবর সংযোগ’সহ প্রথম আলো, সমকাল, ইত্তেফাক ও বিডিনিউজ২৪ ডটকমে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। উপলব্ধ প্রকাশ-সময়ের ভিত্তিতে ‘আগামী প্রজন্ম’কে এ বিষয়ে সবচেয়ে আগে প্রতিবেদন প্রকাশকারী ওয়েবসাইট হিসেবে দেখা যাচ্ছে। তবে ওয়েবসাইটের সময় পরিবর্তন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, প্রিন্ট কিংবা অন্য মাধ্যমে আগে প্রকাশের তথ্য থাকলে এ ক্রম ভিন্ন হতে পারে।