পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজলার মির্জাপুর খাদ্য গুদামে রিপিয়ারিং, অফিস ভবন নির্মাণ ও বাউন্ডারি ওয়ালের গ্রেড বিম কাজে ব্যাপক অনিয়ম। নিম্নমানের মাল সামগ্রী ব্যবহার করে তড়ি-ঘড়ি কাজ সম্পন্ন করার মহোৎসবে মেতে উঠেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জনবল।
জানাগেছে, আটোয়ারী উপজেলা মির্জাপুর খাদ্য গুদামের রাস্তা উচু করণ, অফিস ভবন নির্মাণ সহ বিভিন্ন রিপিয়ারিং বাউন্ডারী ওয়াল বাবদ সরকারের ৮৪ লক্ষ টাকা ব্যয় বরাদ্দের টেন্ডার রাজশাহীর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স তানভীর এন্টারপ্রাইজ নামক প্রতিষ্ঠানটি পায়। কাজের সময় একাধিক বার ঐ খাদ্য গুদামে গিয়ে দেখা গেল চিত্রটা সম্পূর্ণ উল্টো। প্রকল্পে ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের ইট, ধুলাযুক্ত বালু এবং নিম্নমানের সিমেন্ট, রড বাউন্ডারি ওয়ালে ৩ সুতি রড দিয়ে গ্রেড বিম ঢালাই ইত্যাদি। রাস্তা ঢালাইয়ে সিমেন্ট বালুর মিশ্রণে ব্যবহার করা হচ্ছে অতিরিক্ত বালু।
ভালো মানের নির্মাণ সামগ্রীর ছিটেফোঁটাও নেই বললেও চলে। অথচ বিল তোলা হবে সরকারি রেটেই। এ যেন রাষ্ট্রের টাকা দিয়ে রাষ্ট্রকেই ঠকানোর এক মহোৎসব বা, হরিলুট। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, কাজ চলাকালীন শুরু থেকে অদ্মাবধী সময় পর্যন্ত পুরো প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কোনো প্রকৌশলী উপস্থিত নেই। শ্রমিকেরা ইচ্ছেমতো কাজ করছে। শ্রমিকদের কাছে প্রকল্পের ব্যয়, মেয়াদ বা নকশার বিষয় জানতে চাইলে তারা কিছুই বলতে পারেননি। দায়িত্বপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজ কে মোবাইল করলে তিনি বলেন, আমার সাইডে কাজ দেখার সময় নেই, মিস্ত্রিদের বুঝিয়ে দিয়েছি তারা সিডিউল মফিক কাজ করবে। কাজের এস্টিমেট দেখতে চাইলে তিনি এ প্রতিনিধিকে রংপুর অফিসে যেতে বলেন। কাজের সাইডে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কেউ নেই, পাশাপাশি কোন প্রকৌশলী ও নেই । ঠিকাদার থরফিকুল ইসলাম কে মোবাইল করলে তিনি জানান, আমি রাজশাহীতে আছি, কাজ দেখার জন্য মির্জাপুর ওসিএলএসডি সাইদুর সাহেবকে ও আমার মিস্ত্রি দেরকে বুঝিয়ে দিয়েছি। তারা কাজ করবেন । এ বিষয় মির্জাপুর ওসি এল এস ডি সাইদুর রহমান কে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, আমি ঠিকাদারি কাজ বুঝি না। ঠিকাদারের লোকজন কাজ করছে আমার দেখা ছারা কোন উপায় নেই।
এলাকাবাসীর স্পষ্ট অভিযোগ, ঠিকাদার এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কিছু অসাধু কর্মকর্তার গোপন আঁতাতের কারণেই দিনের পর দিন এই নিম্নমানের কাজ ও প্রতারণা করে আসছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন স্থানীয় ঠিকাদার বলেন, এখানে যা কাজ হয়েছে তা দায় সারা ভাবেই হয়েছে। এই অবস্থায় এলাকাবাসী এবং সচেতন মহলের দাবি, অবিলম্বে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে কাজের গুণগত মান যাচাই করা হোক। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত থমেসার্স তানভীর এন্টারপ্রাইজের সব বিল স্থগিত করে, রাষ্ট্রের ৮৪ লাখ টাকা সঠিকভাবে ব্যয় করা হোক বলে দাবি জানিয়েছেন।