বর্তমান সময়ে যখন চিকিৎসাসেবা দিন দিন বাণিজ্যিক ও ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে, ঠিক তখন কিছু মানুষ নিজেদের কাজকে পেশার গণ্ডি পেরিয়ে মানবসেবার সর্বোচ্চ ব্রত হিসেবে বেছে নেন। তেমনই একজন অনন্য ব্যক্তিত্ব, মানবতার দৃষ্টান্ত ও খ্যাতনামা কিডনি বিশেষজ্ঞ ডা. এম.এ. বাতেন। তিনি শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। তবে শুধু প্রশাসনিক পদে কিংবা চিকিৎসকের চার দেয়ালের মাঝে তিনি সীমাবদ্ধ নন নিঃস্বার্থ ভালোবাসা আর সেবার ব্রত নিয়ে তিনি রূপ নিয়েছেন উত্তরাঞ্চলের হাজারো মানুষের আস্থার প্রতীক ও আসল মানবতার ফেরিওয়ালায়। একজন উচ্চশিক্ষিত ও সহকারী অধ্যাপক পর্যায়ের অভিজ্ঞ চিকিৎসক হওয়া সত্ত্বেও ডা. বাতেনের চেম্বারে ধনী-দরিদ্রের কোনো ভেদাভেদ নেই। সাধারণ, গরিব, অসহায় এবং এতিম রোগীদের কষ্টের কথা চিন্তা করে তিনি অতি নামমাত্র ফি-তে রোগী দেখেন, আর অসচ্ছলদের জন্য তো তাঁর দুয়ার পুরোটাই বিনামূল্যে খোলা। শুধু তাই নয়, চিকিৎসা জগতের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও জটিল অপারেশনের ক্ষেত্রে তিনি নামমাত্র পারিশ্রমিক বা সার্জন ফি গ্রহণ করেন। চিকিৎসা ব্যয় যেন দরিদ্র পরিবারকে নিঃস্ব না করে দেয় সেই মানবিক তাগিদ থেকেই তাঁর এই বিরল মহোদ্যোগ।
উত্তরবঙ্গের দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত কিডনি রোগীদের স্বল্পমূল্যে আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বগুড়ায় গড়ে তুলেছেন ‘বগুড়া স্পেশালাইজড হাসপাতাল’। হাসপাতালটির আধুনিক প্রযুক্তি ও মানসম্মত পরিবেশে সাধারণ মানুষ অত্যন্ত সুলভে কিডনিজনিত নানা রোগের চিকিৎসা ও অপারেশন করার সুযোগ পাচ্ছেন। ডা. এম.এ. বাতেনের কাছে মানুষের জীবন বাঁচানো এবং রোগীকে সুস্থ করে তোলাই জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি এবং পরম ইবাদত। চিকিৎসা খাতে এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করায় তিনি ইতোমধ্যে সম্মাননা ও পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।
সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে ডা. বাতেন তৈরি করেছেন ‘ডাঃ বাতেন ডাঃ খাদিজা কল্যাণ ট্রাস্ট’। চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় এই ট্রাস্ট নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ট্রাস্টের উদ্যোগে প্রতি বছর শীতের মৌসুমে হাজারো দুস্থ ও ছিন্নমূল মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয় শীতবস্ত্র। সুবিধাবঞ্চিত কিন্তু মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন সচল রাখতে দেওয়া হয় নিয়মিত আর্থিক সহায়তা। এ ছাড়া সামাজিক ও ধর্মীয় দায়িত্ববোধ থেকে তিনি নিজ অর্থায়নে ও ব্যবস্থাপনায় গড়ে তুলেছেন মসজিদ, মাদ্রাসা ও প্রশস্ত ঈদগাহ ময়দান।
চিকিৎসক হিসেবে তাঁর এই জনকল্যাণমূলক ভূমিকা যেকোনো সংকটময় সময়ে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাকালীন সংকটে যখন মানুষ ছিল ঘরবন্দি ও আতঙ্কিত, তখন নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি মাঠে নেমেছেন। সাধারণ ও অসহায় মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া, বিনামূল্যে মাস্ক ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা এবং সার্বক্ষণিক চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া ছিল তাঁর দৈনন্দিন রুটিন।
সম্প্রতি সংঘটিত ২৪-এর জুলাই আন্দোলনে আহত যোদ্ধাদের পাশেও তিনি দাঁড়িয়েছেন পরম মমতায়। আন্দোলন চলাকালে ও পরবর্তীতে আহত রোগীদের জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা, হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে তাদের নিয়মিত শারীরিক খোঁজখবর নেওয়া এবং আর্থিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে তিনি অনন্য এক দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছেন। চিকিৎসা পেশার ব্যবসায়িক জাঁতাকলে পিষ্ট সমাজে ডা. এম.এ. বাতেন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, সততা এবং মানবিক মূল্যবোধের আলো ছড়িয়ে তিনি প্রমাণ করে চলেছেন সমাজ পরিবর্তন ও মানবকল্যাণের ইচ্ছা থাকলে নিঃস্বার্থ সেবাই হতে পারে জীবনের সবচেয়ে বড় ব্রত।