নেপালে আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৪৬৯

এফএনএস অনলাইন ডেস্ক : | প্রকাশ: ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ০১:০১ পিএম
নেপালে আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৪৬৯

ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে নেপাল। ঢলের সঙ্গে  কাদা থেকে উঠে আসছে একের পর এক লাশ; প্রতি ঘণ্টায় দীর্ঘ হচ্ছে মৃতের মিছিল। ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার ৪৮ ঘণ্টারও বেশি সময় পার হলেও মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে পৌঁছেছে। এই ঘটনায় এখনও প্রায় ১,৫০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোতে আবারও দ্বিতীয় দফায় বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নিখোঁজদের মধ্যে একটি বড় অংশই বিদেশি পর্যটক। এদের মধ্যে নেপালে আসা পর্বতযাত্রী (ট্রেকার) এবং তিব্বতের পবিত্র কৈলাশ পর্বতের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়া হিন্দু তীর্থযাত্রীরা রয়েছেন।

এই দুর্যোগে প্রতিবেশী তিব্বতেও প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তবে এই নিখোঁজের সংখ্যা নেপালের দেওয়া তালিকার সাথে সম্পর্কিত কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

নতুন স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, নেপাল ও তিব্বতের মধ্যবর্তী রসুওয়াগধি সীমান্ত পারাপার কেন্দ্রটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। আকস্মিক এই বন্যায় পুরো উপত্যকা প্লাবিত হয়েছে, যার ফলে বহু ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।

উদ্ধারকারী দলগুলো জীবিতদের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রাখলেও পুনরায় বন্যার সতর্কবার্তার কারণে তাদের কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

চীন-নেপাল সীমান্তের কাছে বিশাল ভূমিধসের পর একটি কৃত্রিম হ্রদ সৃষ্টি হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে চীন সরকার তাদের চার-স্তর বিশিষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগ সতর্কতার সর্বনিম্ন ধাপ ‘লেভেল-৪’ জরুরি সতর্কতা জারি করেছে।

চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ছেনখোলা এবং পুরেপু চাংপো নদীর মিলনস্থলে এই হ্রদটি তৈরি হয়েছে। নদী দুটি তিব্বতে উৎপত্তি লাভ করে নেপালে প্রবাহিত হয়েছে এবং এগুলো সেখানকার ভোটে কোশি নদী ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়ার তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার সকাল নাগাদ এই হ্রদে প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার পানি জমেছে। টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পানির পরিমাণ ৩০ লাখ ঘনমিটারে পৌঁছাতে পারে, যা হ্রদের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

এই বাঁধ ভেঙে গেলে নিম্নাঞ্চলের দিকে এক প্রবল জলোচ্ছ্বাস ধেয়ে আসতে পারে। এতে চীন-নেপাল সীমান্তের কাইরং বন্দর এবং নদী তীরবর্তী অন্যান্য এলাকা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।

স্থানীয় কর্মকর্তারা সংবাদ মাধ্যম বিবিসিকে জানিয়েছেন, একটি হিমবাহ ধসে পড়ার কারণেই মূলত প্রথম দফার এই শক্তিশালী বন্যার সৃষ্টি হয়। এর পানির তোড়ে ভেসে যায় বহু ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট এবং নেপাল-তিব্বতের মধ্যকার প্রধান সীমান্ত পারাপার সেতুটি ভেঙে পড়ে।

এই অঞ্চলটিতে প্রতি বছর হাজারো দর্শনার্থী আসেন, যাদের মধ্যে প্রচুর পর্বতযাত্রী এবং কৈলাশ পর্বতের উদ্দেশে যাওয়া তীর্থযাত্রী থাকেন।

বর্তমানে নিখোঁজ পর্যটকদের পরিবারগুলো উদ্বেগের সাথে খবরের জন্য অপেক্ষা করছেন। নিখোঁজ হওয়া দম্পতির দুই মেয়ে বিবিসিকে জানান, তারা তাদের বাবা-মায়ের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য অধীর অপেক্ষায় আছেন।

উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকা এবং নতুন করে বন্যার ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে