মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ও ক্র্যাক প্লাটুনের গেরিলা যোদ্ধা শাফী ইমাম রুমীকে স্মরণ করে সিলেটের এমসি কলেজে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও আলোচনা সভা করেছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট। শনিবার (৩০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টায় সংগঠনটির এমসি কলেজ শাখার উদ্যোগে কলেজ ক্যাম্পাসের শহীদ মিনারে শহীদ রুমীর অস্থায়ী প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট সিলেট নগর শাখার সভাপতি সুমিত কান্তি পিনাক, এমসি কলেজ শাখার সংগঠক দোয়েল রায়, অনিক দাস ও অপূর্ব রায়সহ নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীন ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে শাফী ইমাম রুমীসহ ক্র্যাক প্লাটুনের বীর যোদ্ধারা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। মেধাবী তরুণ রুমী চাইলে বিদেশে গিয়ে নিরাপদ জীবন বেছে নিতে পারতেন। কিন্তু দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা থেকে তিনি গেরিলা যুদ্ধে অংশ নেন।
তারা বলেন, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যখন বিশ্ববাসীর কাছে মুক্তিযুদ্ধের অস্তিত্ব অস্বীকার করার চেষ্টা করছিল, তখন ঢাকার বুকে রুমীসহ ক্র্যাক প্লাটুনের গেরিলাদের একের পর এক সফল অভিযান সেই অপপ্রচারকে ব্যর্থ করে দেয়। ২৫ মার্চের গণহত্যার পর মুক্তিকামী মানুষের মধ্যে যে ভয় ও হতাশা তৈরি হয়েছিল, তাঁদের বীরত্ব সেই ভয়কে সাহসে পরিণত করেছিল।
বক্তারা আরও বলেন, ১৯৭১ সালের ৩০ আগস্ট পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর এ দেশীয় সহযোগীদের প্রত্যক্ষ সহায়তায় শহীদ রুমীসহ ক্র্যাক প্লাটুনের বেশ কয়েকজন গেরিলা যোদ্ধা আটক হন। তাঁদের ওপর চালানো হয় অকথ্য নির্যাতন। পরবর্তীতে তাঁদের আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শহীদ রুমী যে বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে জীবন দিয়েছিলেন, তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। শিক্ষা ক্ষেত্রে অর্থনির্ভর বৈষম্য, শিক্ষাজীবন শেষে কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা এবং ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা। এ সময় দেশের পররাষ্ট্রনীতি ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তি নিয়েও সমালোচনা করেন বক্তারা। তাঁদের অভিযোগ, শাসকদের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে বাংলাদেশ সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের ঝুঁকিতে পড়ছে। শহীদ রুমীর চেতনাকে ধারণ করে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা এবং বিপ্লবী ধারার ছাত্র আন্দোলন গড়ে তোলার সংগ্রাম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ।