এসআই’র বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রশাসনিক তদন্ত চলছে

কালিহাতীতে ঘুষ নিয়ে সাজানো হয় মাদকের নাটক

এফএনএস (টাঙ্গাইল) : | প্রকাশ: ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৭:৩০ পিএম
কালিহাতীতে ঘুষ নিয়ে সাজানো হয় মাদকের নাটক

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে তল্লাশির নামে ৬৫ বছরের এক বৃদ্ধকে প্রকাশ্য রাস্তায় চড়-থাপ্পড় মেরে থানায় নিয়ে নির্যাতন, পকেট থেকে টাকা ছিনতাই এবং পরিবারের কাছ থেকে ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা ঘুষ আদায়ের এক লোমহর্ষক অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত এসআই মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বর্তমানে কালিহাতী থানার বল্লা ইউনিয়ন বিটের দায়িত্বে রয়েছেন। এই অন্যায়ের প্রতিকার ও ন্যায়বিচারের দাবিতে পুলিশ সুপারের কাছে দেওয়া ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধী আ. ছালামের অভিযোগের তদন্ত চলছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২ আগস্ট বিকালে বল্লা বাজারের মেইন রোডে দাঁড়িয়ে ছিলেন বল্লা চকপাড়া গ্রামের মৃত লেবু মিয়ার ছেলে প্রতিবন্ধী আ. ছালাম। এ সময় এসআই আসাদুজ্জামান অপর এক পুলিশ সদস্যসহ মোটরসাইকেলে এসে

তাকে তল্লাশি করতে চান। ছালাম নিজের কাছে অবৈধ কিছু নেই বলা মাত্রই ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে চড়-থাপ্পড় মারেন ওই এসআই। পরে হাতকড়া পরিয়ে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। থানার দোতলায় আটকে রেখে তাকে ‘মাদক ব্যবসায়ী’ বানানোরজন্য চালানো হয় নির্মম নির্যাতন। এক পর্যায়ে নির্যাতনের মুখে প্রাণভয়ে

প্রতিবন্ধী আ. ছালাম নিজের কাছে ‘২ পুরিয়া গাঁজা’ থাকার কথা স্বীকার করতে বাধ্য হন। স্বীকারোক্তি আদায়ের পর এসআই আসাদুজ্জামান প্রথমে ছালামের পকেটে থাকা ১৯ হাজার ৫০০ টাকা কেরে নেন। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তার অসহায় পরিবারের কাছ থেকে আরও ২৬ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।

কিন্তু মোট ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা ঘুষ পকেটে ভরেও শেষ রক্ষা হয়নি ওই প্রতিবন্ধীর। ঘটনা ধামাচাপা দিতে এবং নিজের পিঠ বাঁচাতে পরদিন ৩ আগস্ট তাকে এসিল্যান্ড অফিসে হাজির করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১৫ দিনের সাজা দেওয়া হয়। দীর্ঘ ১৫ দিন কারাভোগের পর গত ১৮ আগস্ট মুক্তি পেয়েই এই

আইনি লড়াইয়ে নামেন তিনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসআই আসাদুজ্জামান বল্লা ইউনিয়ন বিটের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই এলাকায় সাধারণ মানুষকে নানাভাবে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা বাণিজ্য করছেন। তার এই লাগামহীন হয়রানিতে বল্লা

এলাকায় তীব্র গণরোষের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার অভিযুক্ত এই পুলিশ কর্মকর্তার দ্রুত অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছে। এ বিষয়ে প্রতিবন্ধী আ. ছালামের দেওয়া অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার(কালিহাতী সার্কেল) মো. মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, ঘটনাটির বিষয়ে তিনি সাক্ষ্য-প্রমাণ খতিয়ে দেখছেন। তিনি যথাসময়ে পুলিশ সুপারের কাছে তদন্ত রিপোর্ট পেশ করবেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে