পাবনার সুজানগরের ঐতিহ্যবাহী গাজনার বিল নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি ও বেড় জালে সয়লাব হয়ে গেছে। নিষিদ্ধ ক্ষতিকর ওই জালে মা ও পোনা মাছ নিধনের পাশাপাশি ধ্বংস হচ্ছে জলজ জীববৈচিত্র্য।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলায় ঐতিহাসিক গাজনার বিল, মতিয়ার বিল এবং বিল গন্ডহস্তিসহ ছোট বড় ৮/১০টি বিল রয়েছে। বর্ষার নতুন পানির সাথে ওই সকল বিলে প্রচুর পরিমাণে পোনা ও মা মাছ আসছে। তাছাড়া সরকারিভাবেও বিল গুলোতে পোনা মাছ অবমুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু কতিপয় অসাধু মৎস্যজীবী ও মৎস্য শিকারী হাট-বাজার থেকে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি, বেড়, কারেন্ট ও খড়া জাল কিনে বিল থেকে অবাধে মা ও পোনা মাছ নিধন করছে। বিলপাড়ের খয়রান গ্রামের ময়েন উদ্দিন বলেন চায়না এবং বেড় জাল অত্যন্ত সুক্ষ্ণ এবং ঘন। সেকারণে খুব সহজেই ওই জালে শিং, বাইম, কই, টেংরা এবং পুঁটি মাছসহ অন্যান্য মাছ আটকা পড়ে। পাশাপাশি ওই জালে আটকা পড়ে মারা যাচ্ছে, কচ্ছপ, ব্যাঙ, শামুক এবং সাপসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণি ও কীটপতঙ্গ। এতে একদিকে ধ্বংস হচ্ছে বীববৈচিত্র্য, অন্যদিকে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য। উপজেলার মানিকহাট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল হাই বলেন মৎস্য রক্ষা ও সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী ওই জালের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু তারপরও মৎস্য বিভাগের উদাসীনতার সুযোগে বিলপাড়ের অসাধু মৎস্যজীবী ও মৎস্য শিকারীরা প্রতিদিন দুপুরে, সন্ধ্যা রাতে এবং ভোর রাতে নিষিদ্ধ ওই চায়না দুয়ারি ও বেড় জাল দিয়ে গাজনার বিলসহ আশপাশের বিল থেকে অবাধে পোনা ও মা মাছ নিধন করছে। এ ব্যাপারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অঃদাঃ) মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন মা ও পোনা মাছ নিধন বন্ধে প্রায়ই বিলে বিশেষ অভিযান চালিয়ে জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ফেলা হয়। প্রয়োজনে আরো অভিযান পরিচালনা করে ওই সকল মৎস্যজীবী ও শিকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।