ময়মনসিংহের ত্রিশালে স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বুলু নামে এক ব্যক্তিকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে শহীদ মিয়ার বিরুদ্ধে। পরে স্থানীয় জনতা তাকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ত্রিশাল পৌরশহরের দরিরামপুর কোচস্ট্যান্ড এলাকায় একটি পানের আড়তের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কাঁঠাল ইউনিয়নের বালিয়ারপাড় গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে শহীদ মিয়া একটি ফ্যাক্টরিতে চাকরি করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, শহীদ কর্মস্থলে থাকাকালে তার স্ত্রী খাদিজা বেগমের সঙ্গে প্রতিবেশী বুলুর পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়ভাবে দেন-দরবারের মাধ্যমে তা মীমাংসা করা হয়। তবে এ ঘটনায় শহীদের মধ্যে ক্ষোভ থেকে যায় বলে স্থানীয়রা জানান।
সোমবার দুপুরে দরিরামপুর কোচস্ট্যান্ড এলাকায় বুলুকে দেখতে পেয়ে শহীদ তার ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে চাপাতি দিয়ে বুলুর গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
এ সময় স্থানীয়রা এগিয়ে এসে শহীদকে আটক করে গণপিটুনি দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। আহত বুলুকে প্রথমে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন। ত্রিশাল থানার ওসি (তদন্ত) গোলাম মোস্তফা রুবেল বলেন, বুলুকে চাপাতি দিয়ে কোপানোর সময় স্থানীয় জনতা শহীদকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। জিজ্ঞাসাবাদে শহীদ দাবি করেছেন, বুলু তার স্ত্রীকে ধর্ষণ করায় তিনি তাকে কুপিয়েছেন। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও তিনি জানান।