সমবায় সমিতির অনিয়মের সংবাদ প্রকাশ, দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা

এফএনএস (জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না; লালমনিরহাট) : | প্রকাশ: ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:১২ পিএম
সমবায় সমিতির অনিয়মের সংবাদ প্রকাশ, দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা

লালমনিরহাটে সমবায় সমিতির আড়ালে অবৈধ ঋণদান, চড়া সুদে কিস্তি আদায়, দাদন ব্যবসা এবং নিম্নমানের পণ্য বিক্রি সংক্রান্ত অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের জেরে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলার ঘটনা ঘটেছে। সমিতির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়ের করা এই মামলাটি বর্তমানে নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) ন্যস্ত করেছে আদালত। সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা এবং মিথ্যা মামলা দায়েরের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছেন লালমনিরহাটে কর্মরত সাংবাদিক সমাজ।

‎গত ১৩ এপ্রিল জাতীয় দৈনিক কালবেলা-য় 'গ্রাহকের ১২ কোটি টাকা নিয়ে উধাও দুই সমিতি' শিরোনামে একটি চাঞ্চল্যকর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে ‘তিস্তা সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি’ ও ‘তিস্তা ইন্টারন্যাশনাল’-এর স্বত্বাধিকারী এম. এ. হাশেম ওরফে বাবুলের বিরুদ্ধে সাধারণ গ্রাহকদের আমানতের অর্থ আটকে রাখা, শতকরা ২০ থেকে ৩০ শতাংশ চড়া সুদে অর্থ লেনদেন এবং সঞ্চয়ের টাকার বিপরীতে নিম্নমানের পণ্য ধরিয়ে দেওয়ার অনিয়মের চিত্র তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি প্রথম সারির অন্যান্য সংবাদমাধ্যমেও এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

‎উক্ত সংবাদ প্রকাশের জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে ‘তিস্তা সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিঃ’-এর সভাপতি এবং পরবর্তীতে নাম পরিবর্তনকারী ‘তিস্তা সমবায় বাজার’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. এ. হাশেম রংপুর সাইবার ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় দৈনিক কালবেলা'র লালমনিরহাট প্রতিনিধি শেখ খায়রুজ্জামান শাহেদ (এস. কে. সাহেদ) এবং নয়া দিগন্ত (ডিজিটাল)-এর প্রতিনিধি মোঃ জুবাইর আহমেদ খানকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মানহানিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। ট্রাইব্যুনাল অভিযোগটি আমলে নিয়ে অধিকতর ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য সিআইডি লালমনিরহাটকে দায়িত্ব প্রদান করেছেন।

‎সাংবাদিকদের প্রতিক্রিয়া ও প্রতিবাদ

‎হয়রানিমূলক এই মামলা নিয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিক শেখ খায়রুজ্জামান শাহেদ বলেন,

‎'আমরা কোনো ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে নয়, বরং সমবায় সমিতির নামে সাধারণ মানুষের রক্ত পানি করা অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার সত্য ঘটনা তুলে ধরেছিলাম। আমাদের কণ্ঠরোধ করতে ও অপকর্ম আড়াল করতেই এই মিথ্যা মামলার চতুর আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।' মামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে প্রেসক্লাব লালমনিরহাটের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন স্বপন বলেন, 'বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের পর তা খণ্ডন না করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা মুক্ত ও স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত। আমরা এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার তীব্র নিন্দা জানাই এবং অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের দাবি করছি।'

‎সাংবাদিক নেতা তৌহিদ লিটন বলেন, 'অনিয়মে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা নিজেদের অপরাধ আড়াল করার মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কালবেলা ও নয়া দিগন্তের প্রতিনিধির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি স্পষ্টতই প্রতিশোধমূলক। সিআইডির নিরপেক্ষ তদন্তে আসল সত্য বেরিয়ে আসবে বলে আমাদের বিশ্বাস।' অভিযুক্ত সমবায় সমিতির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. এ. হাশেম ওরফে বাবুলের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন থাকায় সিআইডি লালমনিরহাটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে