একের পর এক খুন-ছিনতাইয়ের ঘটনায় আতঙ্ক বাড়ছে রাজধানী ঢাকায়। দেশের প্রধান এই শহরের আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বারবার। তুচ্ছ কারণে খুনোখুনি বা প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র নিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মাঝে বাড়ছে ভীতি, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নথিতে রাজধানীর তিন শতাধিক স্পটকে ছিনতাইপ্রবণ বলে চিহ্নিত করা হলেও বাস্তবতা হচ্ছে ঘর থেকে বের হয়েও নাগরিকেরা ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ছেন। এটি নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় আইনশৃঙ্খলাব্যবস্থার দুর্বলতা ও গাফিলতির লক্ষণ। পুলিশ যতই ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলুক না কেন, নাগরিকদের সুস্পষ্ট অভিযোগ হলো, আগের তুলনায় তল্লাশিচৌকি অনেক কমে গেছে এবং অনেক জায়গায় তল্লাশিচৌকি থাকলেও বেশির ভাগ সময় পুলিশ থাকে না, থাকলেও তল্লাশিচৌকি ছেড়ে মুঠোফোনে তাঁরা ব্যস্ত থাকেন। এই অভিযোগ অবশ্যই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে খতিয়ে দেখতে হবে। কেননা, এটা কেবল গুরুতর অভিযোগই নয়; নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশের যে অঙ্গীকার, তারও সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। অপরাধ বিশ্লেষকরা মনে করেন, একদিকে অপরাধীরা ধরা (গ্রেপ্তার) পড়ছে, আরেকদিক দিয়ে বের (জামিনে মুক্ত) হয়ে যাচ্ছে। ফলে পেশাদার অপরাধীদের গ্রেপ্তার-জামিনের মতো বিষয়গুলো নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচার বিভাগের মধ্যে আরও গভীর সমন্বয় জরুরি বলে মনে করেন অপরাধ বিশ্লেষকরা। ঢাকা মহানগর পুলিশের তথ্যমতে, রাজধানীজুড়ে প্রতিদিনই থানা পুলিশ, ডিবি পুলিশ, সিটিটিসি, সাইবার ক্রাইমসহ ডিএমপির অন্যান্য শাখা নিয়মিত অপরাধ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে। কিন্তু তার পরও অপরাধপ্রবণতা সে অনুসারে কমছে না। সমাজকে ছিনতাইকারীর হাত থেকে রক্ষা করতে হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর টহল, জনসচেতনতা এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার সম্মিলিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে. অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং যুবসমাজকে বিপথগামী হওয়া থেকে ফেরানো অত্যন্ত জরুরি। ইদানিং ঢাকা শহরের বিভিন্ন অঞ্চলে সময়ে-অসময়ে রিকশারোহীদের কাছ থেকে হেঁচকা টানে ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনতাইয়ের ঘটনা অতিমাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। ভোরের সময়টুকু ছিনতাইকারীদের জন্য মোক্ষম সময়। তাই ভোরের ঢাকা মানেই এখন আতঙ্কের বিষয়। ঐ সময়ে জনসমাগম কম থাকে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতাও শিথীল থাকে। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যদের উপর পুরোপুরি নির্ভর না করে নিজেদেরও কিছু বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরী।