ফ্লোরিডায় যাওয়ার পথে বিমান বিধ্বস্তে একই পরিবারের চারজন নিখোঁজ

এফএনএস (প্রতিবেদক): | প্রকাশ: ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম
ফ্লোরিডায় যাওয়ার পথে বিমান বিধ্বস্তে একই পরিবারের চারজন নিখোঁজ

বাহামাসে অবকাশ কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ফেরার পথে একটি ছোট বিমান সাগরে বিধ্বস্ত হওয়ার পর এক দম্পতি ও তাদের দুই নাতি-নাতনির খোঁজ মিলছে না। সোমবার দুর্ঘটনার পর তাদের সন্ধানে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে।

বাহামাসের রয়্যাল বাহামাস পুলিশ ফোর্স জানিয়েছে, সোমবার দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে আন্দ্রোস দ্বীপের প্রায় ১৩ মাইল পশ্চিমে একটি পাঁচ আসনের পিএ-৩৪ পাইপার বিমান সাগরে পড়ে যায়। বিমানটি বাহামাসের গ্রেট হারবার কে থেকে সকালে উড্ডয়ন করে ফ্লোরিডার ওপা-লকায় যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

নিখোঁজ চারজন হলেন ৮০ বছর বয়সী পাইলট মারিও লামার, তার ৭৯ বছর বয়সী স্ত্রী লিলি লামার এবং তাদের দুই নাতি-নাতনি—২৮ বছর বয়সী সোফিয়া সোসা ও ২২ বছর বয়সী ক্রিশ্চিয়ান সোসা। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা সবাই মিয়ামির বাসিন্দা।

দুর্ঘটনার আগে পরিবারটি শ্রম দিবসের ছুটির সপ্তাহান্তে গ্রেট হারবার কে-তে নিজেদের বাড়িতে সময় কাটিয়েছিল। পরিবারটির ভাষ্য, বহু বছর ধরে ওই জায়গাটি তাদের কাছে দ্বিতীয় বাড়ির মতো। এবার সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পথেই ঘটে যায় দুর্ঘটনা।

ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটির গতি হঠাৎ করে কয়েকবার পরিবর্তিত হয়। একই সময়ে মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে এর উচ্চতা ১০ হাজার ফুট থেকে নেমে প্রায় ৩ হাজার ৭০০ ফুটে চলে আসে। এরপর বিমানটির সঙ্গে রাডার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

পরিবারের সদস্য সিলভিয়া লারিয়ু জানান, আন্দ্রোস দ্বীপের উত্তর প্রান্তের কাছে বিমানটি খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে পড়েছিল। বৈরী আবহাওয়ার কারণে বাহামাসের উদ্ধারকারী দলও তাৎক্ষণিকভাবে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি।

এক ভিডিও বার্তায় নিখোঁজদের সন্ধানে সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন লারিয়ু। তিনি বলেন, তাদের খুঁজে বের করে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনতে যেকোনো ধরনের সহায়তা প্রয়োজন।

নিখোঁজদের সন্ধানে বাহামাসের কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করছে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড। উদ্ধার অভিযানে তারা একটি এইচসি-১৪৪ ওশান সেন্ট্রি বিমান ব্যবহার করছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাইলট মারিও লামার অত্যন্ত অভিজ্ঞ ছিলেন এবং তার ৪০ বছরেরও বেশি সময়ের উড্ডয়ন অভিজ্ঞতা রয়েছে।

এদিকে, সোফিয়া সোসা সম্প্রতি ওয়েক ফরেস্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করেছেন। তার ভাই ক্রিশ্চিয়ান সোসাও সম্প্রতি লয়োলা মেরিমাউন্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। দুর্ঘটনার পর নিখোঁজ চারজনের পরিবারের সদস্যরা তাদের ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন। এখন পর্যন্ত তাদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।