হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১ হাজার ৩৬

নিজস্ব প্রতিবেদন
| আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৪:০৬ পিএম | প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৪:০৬ পিএম
হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১ হাজার ৩৬
ছবি: সংগ্রহীত

দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০০ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৩৬ জন মারা গেছেন। সব মিলিয়ে হাম ও এর উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৬ জনে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, সোমবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ছয়জনের মধ্যে চারজন ঢাকা বিভাগে, একজন সিলেট এবং একজন চট্টগ্রাম বিভাগের।

একই সময়ে সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ২৩৯ জন রোগী হাসপাতালে এসেছে। তাদের মধ্যে ১ হাজার ১৬২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিভাগভিত্তিক হিসাবে ঢাকা বিভাগে ৩৬৭ জন, চট্টগ্রামে ২৬৬, সিলেটে ১৯৩, বরিশালে ১০৯, খুলনায় ৯৮, ময়মনসিংহে ৮১, রাজশাহীতে ২৯ এবং রংপুরে ১৯ জন ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১ লাখ ৫৩ হাজার ২৭৯ জন ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৮৬ জন।

এ সময়ে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৯৫৯ জনে। নমুনা পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ২০ হাজার ২০১ জনের শরীরে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে নতুন করে ৭৭ জন শনাক্ত হলেও এ সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি।

হামের উপসর্গে মৃত্যুর হিসাবে সবচেয়ে এগিয়ে ঢাকা বিভাগ। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত এ বিভাগে ৪২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সিলেট বিভাগে মারা গেছেন ১৬২ জন। এ ছাড়া রাজশাহীতে ৯৩, ময়মনসিংহে ৭৭, চট্টগ্রামে ৭১, বরিশালে ৫৭, খুলনায় ৩৯ এবং রংপুরে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে বয়সভিত্তিক মৃত্যুর তথ্য দেওয়া হয়নি। রোগতত্ত্ববিদদের মতে, হাম সব বয়সী মানুষের হতে পারে, তবে শিশুরাই এতে বেশি আক্রান্ত হয়। প্রাদুর্ভাবের সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হওয়া মৃত্যুগুলোকে হামজনিত মৃত্যু হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ১৫ মার্চ থেকে নিয়মিতভাবে হামের পরিস্থিতির তথ্য প্রকাশ করছে। প্রায় ছয় মাসে মৃত্যুর সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রায় আট বছর ধরে দেশে হামে সংক্রমণের সংখ্যা ৪০০-এর বেশি হয়নি। ২০২৫ সালে হাম দূরীকরণের লক্ষ্য ছিল এবং ২০২৬ সালে হাম নির্মূলের সনদ পাওয়ার প্রত্যাশা ছিল। তবে চলতি বছরে পরিস্থিতি উল্টো দিকে গেছে।

জনস্বাস্থ্যবিদেরা এ পরিস্থিতির পেছনে টিকাদান কর্মসূচির ঘাটতিকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, বছরের শুরুতে প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেও শুরুতে যথাযথ নজর দেওয়া হয়নি। মার্চ থেকে সংক্রমণ বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এপ্রিল ও মে মাসজুড়ে গণটিকাদান কর্মসূচি চালানো হয়। তবে ওই সময়ও প্রায় ৪০ লাখ শিশু টিকার আওতার বাইরে থেকে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা সব রোগী কিংবা হাসপাতালের বাইরে থাকা সব রোগীর নমুনা পরীক্ষা করা হয় না। ফলে নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা দিয়ে দেশে হামের প্রকৃত বিস্তারের পুরো চিত্র পাওয়া যায় না।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে