পটুয়াখালীর কলাপাড়ার ডংকুপাড়া শনির ঘোজা এলাকায় ঘরে আটকে আপন বোনসহ চার শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টা করেছে ১৫ বছরের এক কিশোর ( নামঃ হাসান হাওলাদার) এ সময় চার শিশুর ডাকচিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এসে হাতে নাতে ওই কিশোরকে আটক করে। পড়ে গ্রামবাসীদের কাছে ওই কিশোর ঘটনার কথা স্বীকার করে। এরপর থেকেই পলাতক রয়েছে ওই কিশোর। এ ঘটনায় মঙ্গলবার দুপুরে এক শিশুর মা মহিপুর থানায় মামলা দায়ের করে। মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, মামলা দায়েরের পরই আসামী গ্রেফতারের জন্য তারা অভিযান শুরু করেছেন। তবে তারা স্বপরিবারে পলাতক রয়েছে। কলাপাড়া উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণে লতাচাপলী ইউনিয়নের শনির ঘোজা গ্রাম। দরিদ্র ও জেলে অধ্যুষিত এ গ্রামের নারী ও পুরুষরা শ্রমজীবী হওয়ায় দিনের বেশিরভাগ সময় ঘরের বাইরে থাকে।
গত ৯ সেপ্টেম্বর বিকাল সোয়া চারটা। এ গ্রামের শহীদ হাওলাদার ও তার স্ত্রী ঘরে আট বছরের শিশুকে রেখে বাইরে যায়। এসময় শিশুটি একই এলাকার ছয়, আট ও নয় বছর বয়সী তিন বান্ধবীকে নিয়ে ঘরে খেলাধুলা করছিলো। এসময় শহীদ হাওলাদারের ছেলে হাসান ঘরে ঢ়ুকে তার মাকে ঘরে না দেখে ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয়। এসময় নিজ বোনাহ চার শিশুকে ঘরের মাঝে নিয়ে ভয় দেখিয়ে জোর করে পরিধেয় বস্ত্র খুলে ফেলে। একপর্যায়ে তাদের ঘরের চৌকিতে উঠিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে। এসময শিশুদের ডাকচিৎকার শুনে এক শিশুর বড় বোনসন এলাকাবাসী এসে শিশুদের বিবস্ত্র অবস্থায় উদ্ধার করে।
ঘটনার শিকার এক শিশু জানায় তাদের জোড় করে সব খুলে ফেলেছে। আর অভিভাবকরা বলেন, ছোট চার শিশুর উপর একসাথে নারকীয় অত্যাচার কেউ কল্পনায়ও আনতে পারেনি। তাদের সন্তানরা এখন ট্রমার মধ্যে আছে।
এলাকার লোকজন বলেন, এক শিশুর বোন তাদের কান্না শুনতে না পারলে তাদের সবার সর্বনাশ হতে পারতো। এ ছেলের কারণে এলাকার বাচ্চারা ঠিকমতো স্কুলে আসা যাওয়া করতে পারেনা। তারা বলেন, এ ঘটনায় বিচার না হলে কোন শিশুর নিরাপত্তা থাকবে না। গত নয় সেপ্টেম্বর এ ঘটনা হলেও ১০ সেপ্টেম্বর এলাকার মানুষ হাসানকে আটক করে গাছের সাথে বেঁধে রাখে। এ সময় হাসান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে। এসময় ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী তার মাথার চুল কেটে দেয় এবং তার পরিবারকে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলে। তবে থানায় যাতে অভিযোগ দিতে না পারে এজন্য ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে হাসানের ফুফা মো. কালাম। তবে কালাম ও হাসানের পরিবার এলাকা থেকে পালিয়ে যাওয়ায় তাদের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে ঘরটি তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। এ বিষয়ে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামিম হাওলাদার বলেন, থানায় মামলা দায়েরের পরপরই তারা অভিযান চালায়। তবে সবাই পলাতক রয়েছে।
এদিকে ঘটনার ছয় দিন অতিবাহিত হলেও চার শিশুকে চিকিৎসা কিংবা কাউন্সিলের উদ্যোগ নেয়নি স্বজনরা। সচেতন মহলের দাবি জরুরি ভিত্তিতে শিশুদের চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক ডাক্তারের পরামর্শ প্রয়োজন। তানাহলে চার শিশুরই কিশোর শুরু হবে এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা দিয়ে। যার প্রভাব পড়তে পারে তাদের ভবিষ্যতে। এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, তারা বিষয়টি জেনেছেন। চার শিশুর চিকিৎসা এবং তারা যাতে একটি সুন্দর ভবিষ্য পায় সে বিষয়ে তাদের কাউন্সিলের উদ্যোগ নেয়া হবে।