নীলফামারীর সৈয়দপুরে মাদক নির্মূলে পুলিশের জোরালো অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত কয়েক দিনে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। আবার কাউকে কাউকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজাও দেওয়া হয়েছে। পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ,জনপ্রতিনিধি ও যুবসমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণে মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতাও বাড়ছে। এমন কথা জানালেন,সৈয়দপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও ব্যবসায়ী মো. আক্তার হোসেন ফেকু।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,সৈয়দপুর শহর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী তৎপরতা আগের তুলনায় দৃশ্যমানভাবে বেড়েছে। মাদক ব্যবসা ও সেবনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর পাশাপাশি অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে পুলিশি নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।
সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রেজাউল করিম রেজা দায়িত্ব নেওয়ার পর মাদকবিরোধী অভিযানকে গুরুত্ব দিয়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছেন বলে অনেকে জানান। এরই মধ্যে কয়েকটি এলাকায় মাদকবিরোধী সভা-সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে প্রশাসনের পাশাপাশি এলাকাবাসীকে মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। পুলিশের অভিযান ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন মহল্লার যুবসমাজও মাদকের বিরুদ্ধে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। স্থানীয় যুবকদের অনেকেই মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করছেন। ফলে মাদক নির্মূলে পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সমন্বয়ও বাড়ছে। এদিকে সৈয়দপুরে দীর্ঘদিনের আলোচিত থাই জুয়া আগের তুলনায় অনেকটাই কমে এসেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ছোটখাটো চুরি, ছিনতাইসহ অন্যান্য অপরাধ পুরোপুরি বন্ধ না হলেও এসব ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর রয়েছে বলে থানা সুত্রে জানা গেছে। প্রতিদিন শহর ও গ্রামাঞ্চলে ছোট-বড় নানা অপরাধমূলক ঘটনা ঘটলেও অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ উভয় পক্ষকে থানায় ডেকে বিষয়টি শুনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগও নিচ্ছে। এতে অনেক স্থানীয় বিরোধ বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নেওয়ার আগেই নিষ্পত্তি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মাদক নির্মূল শুধু পুলিশের একার পক্ষে সম্ভব নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিশেষ করে তরুণ সমাজকে সঙ্গে নিয়ে ধারাবাহিকভাবে কাজ করতে পারলে মাদকের বিস্তার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সৈয়দপুরে বর্তমানে সেই সম্মিলিত উদ্যোগের একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, মাদকবিরোধী চলমান অভিযানকে আরও কার্যকর করতে হলে নিয়মিত অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি মাদকাসক্তদের পুনর্বাসন ও পরিবারের সচেতনতাকেও গুরুত্ব দিতে হবে। সৈয়দপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের বর্তমান তৎপরতাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। এ ক্ষেত্রে ওসি মো. রেজাউল করিম রেজাসহ থানার পুলিশ সদস্যদের পরিশ্রমের পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এলাকার যুবসমাজ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সচেতন নাগরিকদের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা।