পাঁচবিবির প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলি ভারপ্রাপ্তদের ভারে ভারাক্রান্ত

এফএনএস (মোঃ আব্দুল হাই; পাঁচবিবি, জয়পুর হাট) : | প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৩:৪৩ পিএম
পাঁচবিবির প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলি ভারপ্রাপ্তদের ভারে ভারাক্রান্ত

পাঁচবিবি উপজেলার  ৯৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫৮টিতে নেই প্রধান শিক্ষক। চলছে ভারপ্রাপ্ত দিয়ে।  ভারপ্রাপ্তদের ভারে বিদ্যালয়গুলির অবস্থা নড়বড়ে । শিক্ষকেরা নিজের ইচ্ছামত যায় আসে। নেই চেইন অব কমান্ড। অভিভাবক মহলে নানা প্রশ্ন।

পাঁচবিবি উপজেলাতে  সরকারি বেসরকারি মিলে ১১১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তন্মধ্যে ৯৬টি সরকারি, অবশিষ্ট ১৫টি কিন্ডারগার্টেন স্কুল যা বেসরকারি। কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলো চলে ব্যক্তি মালিকানায়, শিক্ষকদের বেতন যৎসামান্য, অনেক ক্ষেত্রে মাসিক ২/৩ হাজার টাকা।  মালিক নিজে থেকে পরিচালনা করেন বিধায় প্রধান শিক্ষক না থাকলেও কোনো  সমস্যা হয়না। তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগও নেই।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে  শিক্ষকদের বেতনের সমস্যা নেই। বেতন ভাতা পেনশন গ্রাচুইটি সব কিছুই যথারীতি সরকার বহন করে থাকে।  স্কুলগুলো দেখভাল করার জন্য  উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে অফিসার /স্টাফ ও আছে প্রয়োজন মাফিক   কিন্তু অধিকাংশ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নাই, চলছে ভারপ্রাপ্ত দিয়ে, প্রধান শিক্ষক না  থাকায়  হ জ ব ল র অবস্থা। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক  দিয়ে চালু রাখা  বিদ্যালয়গুলোতে নেই চেইন অব কমান্ড, নেই নিয়ম শৃঙ্খলা। যেহেতু সবাই সহকারী শিক্ষক, সেহেতু ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের কমান্ড অনেকেই মানতে নারাজ।  অনেক ক্ষেত্রে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকেরা সহকারী শিক্ষকদের নিয়ন্ত্রণে আনতে না পেরে    চুপচাপ থাকেন, তারা মনে করেন" কয়দিন বা আছি  কি দরকার সম্পর্ক খারাপ করে, যেমন চলে চলুক।

ফল হিসেবে,   তারা  সচেতন পরিবারের শিশুদেরকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে   টানতে পারছেনা। অগ্রসরমান  পরিবারগুলোর বাচ্চারা কিন্ডারগার্টেন  স্কুলগুলোতে লেখা পড়া করে। তারা সরকারি স্কুলে বাচ্চাদেরকে পড়ায়না। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জবাবদিহিতা অফিসারদের নিকট  থাকলেও অভিভাবকদের তারা পাত্তা দেয়না বলে অভিযোগ আছে।

  ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকগন সকলেই সহকারী শিক্ষক। তারা শ্রেণি পাঠদানে দক্ষ হলেও স্কুলের প্রশাসনিক কাজে অনভিজ্ঞ, ফলে স্কুলগুলোতে চলছে এলোমেলো  অবস্থা, এমন অভিযোগ ভুক্তভোগী অভিভাবকদের। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকগন  স্কুল কেমন চালাচ্ছেন জানতে  চাইলে উচনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম  জানান " বাড়িতে গৃহস্থ না থাকলে বাড়ির অবস্থা  যে-রকম হয় " অর্থাৎ-গৃহস্থহীন সংসার যেমন অচল হয়ে পড়ে, প্রধান শিক্ষকবিহীন বিদ্যালয় গুলোর ঠিক একই অবস্থা।  বাগজানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আওতাধীন অভিভাবক আবুল কালাম বলেন "বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকায় আমাদের ছেলে মেয়েদের সমস্যার কথা কাওকে বলতে পারিনা, ভারপ্রাপ্তকে বললে তিনি বলেন" আমাকে বলে কোনো লাভ হবেনা।

উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়  শিক্ষক সমিতির সভাপতি আসাদুজ্জামান মুকুল বলেন " যে যাই-ই বলুক প্রধান শিক্ষক ছাড়া  স্কুল ভালো চলতে পারেনা এটাই সত্য  কথা। যে স্কুলগুলোতে প্রধান শিক্ষক নাই সেই স্কুল গুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। স্কুল গুলোতে কেউ কারো কথা  শোনেনা । সবাই নিজের ইচ্ছামত। চলে"। এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আজিজুল ইসলামের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান " প্রধান শিক্ষক না থাকাতে তেমন কোনো সমস্যা হচ্ছেনা, ভারপ্রাপ্তরা মোটামুটি  ভালই চালাচ্ছে "।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে