সিলেটে নদীভাঙন, বন্যা ও জলাবদ্ধতার দীর্ঘদিনের সমস্যা মোকাবিলায় স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে একাধিক দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার। সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর ভাঙনপ্রবণ এলাকায় নদীতীর সংরক্ষণ, পুনঃখনন, বাঁধ ও সড়ক নির্মাণসহ সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বুধবার সিলেট সদর উপজেলার কানিশাইলে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নাধীন ‘সুরমা-কুশিয়ারা নদী অববাহিকার উন্নয়ন এবং বন্যা ও সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্প (১ম পর্যায়)’-এর আওতায় সুরমা নদীর ডানতীরের নদীতীর প্রতিরক্ষা কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
মন্ত্রী বলেন, সুরমা নদীর ভাঙন প্রতিরোধে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন এলাকায় নদীতীর প্রতিরক্ষা কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। এর মধ্যে মীরের চক এলাকায় ৩০০ মিটার, মেন্দিবাগে ৪০০ মিটার, কানিশাইলে ৫৫০ মিটার, টুকের বাজারে ৫০০ মিটার এবং মীরেরগাঁওয়ে ৫০০ মিটার নদীতীর প্রতিরক্ষা কাজ রয়েছে।
তিনি জানান, সুরমা নদীর পাশাপাশি কুশিয়ারা ও বাসিয়া নদী পুনঃখনন, ড্রেজিং এবং সারিসহ অন্যান্য নদীর তীর প্রতিরক্ষা কাজও পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
উন্নয়নকাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি কাজের অগ্রগতি ও মান নিয়মিত পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানিয়ে স্থানীয় মসজিদের ইমাম, স্কুলের প্রধান শিক্ষক, অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী ও বিশিষ্ট নাগরিকদের সমন্বয়ে তদারকি কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, সিলেটের বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে বড় ধরনের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এর আওতায় সুরমা নদীর উভয় তীরে প্রায় ১৭ কিলোমিটার করে বাঁধ ও সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব কাজ বাস্তবায়িত হলে বন্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নগরবাসীর হাঁটার সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং নদীকেন্দ্রিক পর্যটনের নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হবে।
তিনি আরও বলেন, সিলেটের উন্নয়ন একটি সমন্বিত উদ্যোগ। সরকার, সিটি করপোরেশন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব। সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সিলেটের নদীভাঙন, বন্যা ও জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান করে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান পাপলুসহ স্থানীয় জনসাধারণ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।