পাবনায় ‘বড় নাশকতা’ করেই

ভারতে পালানোর পরিকল্পনা ছিল আ.লীগের নেতাকর্মীদের

এফএনএস (খাইরুল ইসলাম বাসিত; পাবনা) : | প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম
ভারতে পালানোর পরিকল্পনা ছিল আ.লীগের নেতাকর্মীদের

পুরো পাবনা শহরে ব্যাপক নাশকতা করে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল, সঙ্গে ছিল পাসপোর্টও। বড় ধরনের নাশকতার জন্য হাতবোমা ও দেশীয় অস্ত্রসহ ব্যাপক প্রস্তুতিও ছিল আটক নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের। ভোর থেকেই শহরের অলিগলিতে জড়ো হয়েছিলেন তারা। তাদের নেতা আব্দুল ওহাব এসে পৌছালেই শুরু হতো নাশকতা। কিন্তু গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের তৎপরতায় সেই চেষ্টা ভেস্তে যায়। সদর থানা পুলিশ, ডিবি, সিআরটি সহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের যৌথ অভিযানে নাশকতার প্রস্তুতিকালেই তাদের আটক করা হয়।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল পৌনে ৬টার দিকে পাবনা শহরের প্রধান সড়ক আব্দুল হামিদ রোডের ইন্দিরা মোড়ের সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়। পরে তাদের নাশকতার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়।

আটকৃতরা হলেন- পাবনার সুজানগর পৌর এলাকার মথুরাপুরের মৃত জাহেদ আলী শেখের ছেলে সুজানগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সুজানগর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহাব (৬২), তার সহযোগী সুজানগরের মাস্টার পাড়ার আব্দুর রশিদ শেখের ছেলে মো. রাব্বি (২৩), মথুরাপুর এলাকার ইকবাল মিয়ার ছেলে মিথুন মিয়া (৩০), নাজির প্রামাণিকের ছেলে মো. হৃদয় (২০), এনামুল হকের ছেলে ফয়সাল (১৮)।

একই এলাকার সাদেক সরদারের ছেলে আরাফাত হোসেন শুভ (১৮), সুবাহান প্রামাণিকের ছেলে শিমুল প্রামাণিক (১৬), মাহাতাব প্রামাণিকের ছেলে মিজান প্রামাণিক (১৮), ওসমান খাঁর ছেলে আলহাজ্ব খাঁ (২৪), দুর্গাপুর এলাকার আব্দুল আলীম শেখের ছেলে নাজমুল হাসান (১৮), আব্দুল মান্নানের ছেলে মতিউর রহমান (৩২), নারায়ণপুর এলাকার নবীর উদ্দিন শেখের ছেলে রঞ্জু শেখ (১৭), সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নের নতুন গোয়ালবাড়িয়া এলাকার খলিল প্রামাণিকের ছেলে সাবিক (১৯) এবং সাগর প্রামাণিকের ছেলে নাজমুল হোসেন (১৯)।

বিষটি নিশ্চিত করে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, বড় ধরনের নাশকতার জন্যই তারা মাইক্রোবাসে করে পাবনা শহরে এসেছিল। এখানে নাশকতা করে সঙ্গে সঙ্গেই তারা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও করেছিল তারা। কিন্তু আমাদের কাছে আগে থেকেই তাদের পরিকল্পনার গোপন তথ্য ছিল। ফলে জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সমন্বয়ে তাদের আটক করা হয়েছে। এনিয়ে ৫ আগস্ট পরবর্তীতে তৃতীয়বারের মতো আটক হলো আব্দুল ওহাব। এর আগে ২০২৫ সালে ২ ফেব্রুয়ারি মথুরাপুর এলাকা থেকে আব্দুল ওহাবকে আটক করে পুলিশ। পরে তাকে পুলিশ ভ্যানে তোলা হলে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। এসময় আটজন পুলিশ সদস্য আহত হন। ছিনিয়ে নেয়ার তিনদিন পর ৫ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল ওহাবকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ।

পরে জামিনে বেড়িয়ে এসে সুজানগর এলাকায় আবারো আওয়ামী লীগের কার্যক্রম চালিয়ে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করেন আব্দুল ওহাব এবং তার সমর্থকরা। পরে চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল দিবাগত রাতব্যাপী উপজেলার মথুরাপুরে অভিযান চালিয়ে আব্দুল ওহাবসহ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ২১ নেতাকর্মীকে আটক করেছিল পুলিশ। এঘটনার কয়েক সপ্তাহ পরেই তারা জামিনে মুক্তি পান। একটি সূত্র জানিয়েছে- আগের কর্মকাণ্ডেই ভারতে পালিয়ে যাওয়া ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুনজরে ছিল আব্দুল ওহাব। সর্বশেষ আজকে বড় ধরনের নাশকতা করে ভারতে পালিয়ে গিয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনা ছিল এবং পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ পদ পাওয়ার আশা করেছিল।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে