সিলেটে বর্ণাঢ্য আয়োজনে আগামী ৫ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে দুই দিনব্যাপী বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬। এবারের আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে উদ্বোধন করা হবে ইলেকট্রনিক নির্মাণ অনুমোদন ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে ঘরে বসেই নির্মাণ অনুমোদনের আবেদন করা এবং আবেদনের অগ্রগতি অনুসরণ করতে পারবেন সেবাগ্রহীতারা। একই ব্যবস্থার আওতায় প্রবাসীদের জন্য চালু হচ্ছে ‘প্রবাসী এক্সপ্রেস সেবা’। এই সেবার মাধ্যমে এক মাসের মধ্যে প্রবাসীদের নকশা অনুমোদনসহ অন্যান্য সেবা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিউক)। শনিবার (৩ অক্টোবর) সিউক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ব বসতি দিবসের দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী।
তিনি জানান, নাগরিক সেবা আরও সহজ, দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভর করতেই ইলেকট্রনিক নির্মাণ অনুমোদন ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। নতুন এই ব্যবস্থায় সেবাগ্রহীতাদের নির্মাণ অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার যেতে হবে না। অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার পাশাপাশি আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা ঘরে বসেই জানা যাবে।
প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সেবা
নতুন ইলেকট্রনিক ব্যবস্থার সঙ্গে প্রবাসীদের জন্য যুক্ত করা হচ্ছে ‘প্রবাসী এক্সপ্রেস সেবা’। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশের বাইরে অবস্থানরত সিলেটের প্রবাসীদের নির্মাণসংক্রান্ত সেবা সহজ করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই সেবার আওতায় প্রবাসীদের নকশা অনুমোদনসহ অন্যান্য সেবা এক মাসের মধ্যে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। ফলে প্রবাসীদের দেশে এসে দাপ্তরিক প্রক্রিয়ায় সময় দেওয়ার প্রয়োজন কমবে বলে আশা করছে সিউক।
দুই দিনব্যাপী বিশ্ব বসতি দিবস
জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৯৮৬ সাল থেকে প্রতিবছর অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার বিশ্ব বসতি দিবস পালিত হয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ৫ অক্টোবর সোমবার গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশব্যাপী দিবসটি উদযাপন করা হবে।
এবারের প্রতিপাদ্য ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’। প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সিলেটের রিকাবীবাজার স্টেডিয়াম-সংলগ্ন মোহাম্মদ আলী জিমনেশিয়ামে বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের। ৫ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টায় বর্ণাঢ্য র্যালির মধ্য দিয়ে শুরু হবে আয়োজন। সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা এবং দুপুর ১টায় উদ্বোধন করা হবে ইলেকট্রনিক নির্মাণ অনুমোদন ব্যবস্থা। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আবাসন ও নগরায়ণবিষয়ক ভাবনা প্রতিযোগিতা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্টল, নগরায়ণ ও আবাসনবিষয়ক মডেল এবং আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন থাকবে। ৬ অক্টোবর পরিবেশ সুরক্ষায় আম্বরখানা গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ব্লু বার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। একই দিন টেকসই নগরায়ণ ও আবাসনবিষয়ক বিশেষ সেমিনার, প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত মূল্যায়ন, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী আয়োজনের সমাপ্তি হবে।
পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব নগর গড়ার লক্ষ্য
সংবাদ সম্মেলনে সিউক চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, সিলেটকে আধুনিক, পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। এবারই প্রথম আবাসন ও নগরায়ণসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজনকে একই প্ল্যাটফর্মে এনে বৃহৎ পরিসরে বিশ্ব বসতি দিবস উদযাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, নাগরিক সেবা ডিজিটাল করার পাশাপাশি প্রবাসীদের জন্য দ্রুত সেবা নিশ্চিত করাই নতুন ব্যবস্থার অন্যতম লক্ষ্য। আবাসন ও নগরায়ণ খাতের সংশ্লিষ্ট সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সিলেটের পরিকল্পিত বিকাশে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। আয়োজনে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের পাশাপাশি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও লিডিং ইউনিভার্সিটির পুরকৌশল ও স্থাপত্য বিভাগ, ইন্সটিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ, ইন্সটিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ, ইন্সটিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, সিলেট অ্যাপার্টমেন্ট অ্যান্ড রিয়েল এস্টেট গ্রুপ এবং অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড আর্কিটেকচারাল কনসালটেন্সি ফার্ম অংশ নিচ্ছে। এ ছাড়া বার্জার, বিএসআরএম, খাদিম সিরামিক্স ও লাফার্জসহ আবাসন খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও আয়োজনে যুক্ত রয়েছে।