‘জাদুকর’ থেকে বিয়ে, যে কারণে ভাঙছে প্রীতম-শেহতাজের সংসার

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ০১:৪৯ পিএম
‘জাদুকর’ থেকে বিয়ে, যে কারণে ভাঙছে প্রীতম-শেহতাজের সংসার
ছবি: সংগ্রহীত

প্রায় এক দশকের সম্পর্কের পর দাম্পত্যজীবনের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা প্রীতম হাসান এবং মডেল ও অভিনেত্রী শেহতাজ মুনিরা হাশেম। পারস্পরিক বোঝাপড়ায় বড় কিছু পার্থক্যের কারণে আলাদা পথে এগিয়ে যাওয়াই দুজনের জন্য ভালো হবে বলে জানিয়েছেন তারা। রোববার (৪ অক্টোবর) রাতে পৃথক ফেসবুক পোস্টে নিজেদের সিদ্ধান্তের কথা জানান প্রীতম ও শেহতাজ।

প্রীতম তার পোস্টে জানান, পারস্পরিক বোঝাপড়ার মধ্য দিয়ে প্রায় দশ বছরের পথচলার পর তারা বৈবাহিক সম্পর্কের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিষয়টি হঠাৎ করে নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত নয়। নিজেদের মধ্যে আলোচনা এবং পরিবারের সমর্থন ও সম্মতি নিয়েই তারা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। বর্তমানে তাদের বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়া চলছে।

শেহতাজও তার বিবৃতিতে একই কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রীতম ও তিনি পারস্পরিকভাবে এবং সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে একসঙ্গে প্রায় দশ বছর থাকার পর দাম্পত্যজীবনের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সময়ের সঙ্গে তারা বুঝতে পেরেছেন, পারস্পরিক বোঝাপড়ার কিছু পার্থক্যের কারণে আলাদা থাকাই দুজনের জন্য ভালো।

দুজনই একসঙ্গে কাটানো সময় ও স্মৃতির জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। পাশাপাশি একে অপরের প্রতি যত্ন, সম্মান ও শুভকামনা সব সময় থাকবে বলেও জানিয়েছেন তারা। ব্যক্তিগত জীবনের এই পরিবর্তনের সময়ে তাদের ব্যক্তিগত পরিসর ও গোপনীয়তার প্রতি সম্মান দেখানোর অনুরোধ করেছেন প্রীতম ও শেহতাজ। বন্ধু, সহকর্মী ও গণমাধ্যমকেও বিষয়টি সম্মান ও সহমর্মিতার সঙ্গে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

তবে ঘনিষ্ঠজনদের ভাষ্য, প্রকাশ্যে বিচ্ছেদের ঘোষণা দেওয়ার আগে থেকেই বেশ কিছুদিন ধরে তাদের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিল না। কাছের মানুষদের মধ্যেও তাদের আলাদা হয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ছিল। শেষ পর্যন্ত দুজনই বিষয়টি প্রকাশ্যে আনলেন।

প্রীতম ও শেহতাজের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতার শুরু সংগীতের কাজকে কেন্দ্র করে। ২০১৭ সালে প্রীতম হাসানের জনপ্রিয় গান ‘জাদুকর’-এর মিউজিক ভিডিওতে একসঙ্গে কাজ করেন তারা। সেখান থেকেই পরিচয়, পরে সেই সম্পর্ক প্রেমে গড়ায়।

দীর্ঘদিনের প্রেমের পর ২০২২ সালের ২৯ অক্টোবর মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের একটি হোটেলে দুই পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে বিয়ে করেন তারা। বিয়ের আগে প্রায় পাঁচ বছর প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন দুজন।

এক অনুষ্ঠানে নিজেদের প্রেম ও বিয়ের গল্প বলতে গিয়ে প্রীতম জানিয়েছিলেন, ‘জাদুকর’ থেকেই শেহতাজের সঙ্গে তার সম্পর্কের শুরু। তিনি শেহতাজ ও তার মায়ের কাছে একসঙ্গে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। পরিবারের সম্মতিতেই শেষ পর্যন্ত বিয়ে হয় তাদের।

বিয়ের পরও বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একসঙ্গে কাটানো মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেছেন এই দম্পতি। গায়ে হলুদ ও বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার ছবিও ভক্তদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছিল।

বিয়ের পরের সময়গুলোতেও তাদের সম্পর্কের নানা মুহূর্ত সামনে এসেছে। এক ঈদে শেহতাজকে ৫০ হাজার টাকা সালামি দিয়েছিলেন প্রীতম। তখন শেহতাজ বলেছিলেন, প্রেমের সময় থেকেই ঈদে প্রীতমের কাছ থেকে সালামি পেয়ে আসছেন তিনি। কত টাকা দেওয়া হলো, সেটি বড় বিষয় নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ভালোবাসাটাই গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

সম্প্রতি এক মন্তব্যে শেহতাজ প্রীতমের প্রশংসাও করেছিলেন। জানিয়েছিলেন, বিয়ের পর প্রীতম তাকে তার বাবা-মায়ের মতোই যত্নে রাখেন। প্রীতমকে নিয়ে গর্ববোধ করেন এবং তাকে ছাড়া চলা কঠিন বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

বিয়ের পর বিভিন্ন সামাজিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠানেও একসঙ্গে দেখা গেছে তাদের। চলতি বছরের জানুয়ারিতে জেফার রহমান ও রাফসান সাবাবের বিয়ের অনুষ্ঠানেও তারা একসঙ্গে ছিলেন। মার্চেও ঈদের সাজে দুজনের ছবি প্রকাশিত হয়েছিল।

সেই পরিচিত ও দীর্ঘ সম্পর্কের পর এবার আলাদা পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রীতম ও শেহতাজ। দুজনের বক্তব্যেই স্পষ্ট, সিদ্ধান্তটি কোনো আকস্মিক ঘটনার ফল নয়। নিজেদের মধ্যে আলোচনা, পারিবারিক সমর্থন এবং পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতেই দাম্পত্যজীবনের ইতি টানার পথে এগোচ্ছেন তারা।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে