আমতলীতে সংঙ্কট দেখিয়ে অতিরিক্ত দামে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ডিলাররা এক হাজার ৮’শ টাকা দামে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছে। ওই গ্যাস সিলিন্ডার খুচরা বিক্রেতারা দুই হাজার থেকে দুই হাজার দুই’শ টাকায় বিক্রি করছেন। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের কোন তদরকি নেই বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। দ্রুত ডিন্ডিকেটেকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী তাদের।
জানাগেছে, গত সেপ্টেম্বর মাসে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করেছেন সরকার। খুচরা পর্যায় ১২ কেজির গ্যাস সিলিন্ডারের দাম এক হাজার ৫’শ ৯৮ টাকা বিক্রি। কিন্তু আমতলীতে একটি সিন্ডিকেট চক্র সংঙ্কট দেখিয়ে ওই গ্যাস সিলিন্ডার দুই হাজার থেকে দুই হাজার দুই’শ টাকায় গ্যাস বিক্রি করছেন। এতে বেশ দুর্ভোগে পরছে ক্রেতারা। ক্রেতাদের অভিযোগ উপজেলা প্রশাসন গ্যাস ডিন্ডিকেটকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়ায় তারা তাদের ইচ্ছে মাফিক অতিরিক্ত দামে বিক্রি করছেন। দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী ক্রেতাদের।
ক্রেতা হুমায়ুন কবির বলেন, গত তিন দিন আগে তালুকদার বাজার থেকে দুই হাজার এক’’শ টাকায় ১২ কেজির এক সিলিন্ডার গ্যাসের বোতল ক্রয় করেছি। সরকারী নির্ধারিত মুল্যের চেয়ে বোতল প্রতি ৫’শ টাকা বেশী দিয়ে ক্রয় করতে হচ্ছে।
খুচরা বিক্রেতা আমান উল্লাহ বলেন, ডিলার ইব্রাহিম ও বাচ্চু ভ্যানগাড়ীতে করে গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি করছেন। এক হাজার ৮’শ টাকা করে ওমেরা, আইগ্যাস,বিএম, সেনা ও পেট্টোম্যাক্স গ্যাসের ডিলিন্ডার ক্রয় করছি। ওই গ্যাস ৫০ টাকা বেশী দামে বিক্রি করছি। বেশী দামে কিনে বেশী দামে বিক্রি করছি।
পেট্টোমাক্স গ্যাস কোম্পানীর গ্যাস ডিলার ইব্রাহিম বলেন, এক হাজার ৮’শ টাকা করে ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি করছি।
ওমেরা গ্যাস কোম্পানীর ডিলার মোঃ আতিকুর রহমান বাচ্চু বলেন, গ্যাসের তীব্র সংঙ্কট রয়েছে। মাত্র ছয়টি কোম্পানীর গ্যাসের সিলিন্ডার বাজারে সরবরাহ আছে। ওই কোম্পানীগুলো সিলিন্ডার প্রতি এক’শ ৩০ টাকা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।
বসুন্ধরা গ্যাস কোম্পানীর ডিলার মোঃ মহিউদ্দিন বলেন, গত দুই মাস ধরে কোম্পানী গ্যাস সিলিন্ডার দিচ্ছে না। তাই বিক্রি বন্ধ রয়েছে। সেনা কোম্পানীর গ্যাস ডিলার মোঃ রেজাউল বলেন, এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের বেশ সংঙ্কট রয়েছে। ২০০ বোতল গ্যাস সিলিন্ডার মংলা থেকে আনতে ১৯ হাজার টাকায় ট্রাক ভাড়া করেছি। কোম্পানীর মুল্য ও ভাড়া মিলিয়ে গ্যাস বিক্রি করতে হবে। আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, সরকার নির্ধারিত মুল্যেরে চেয়ে বেশী দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির সুযোগ নেই। বেশী দামে গ্যাস বিক্রি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।