সড়কের নৈরাজ্য বন্ধের পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ০৫:৩১ পিএম
সড়কের নৈরাজ্য বন্ধের পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে: রিজভী
ছবি: সংগ্রহীত

পরিবহন খাতে মাফিয়াতন্ত্র ও সড়কের নৈরাজ্য বন্ধ করে মানুষের জন্য স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরি করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। একই সঙ্গে বিগত সরকারের সময়ে শিক্ষাব্যবস্থার মান নেমে যাওয়া এবং অতিরিক্ত রাজনীতিকরণের সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, একটি জাতির মেরুদণ্ড দুর্বল হলে যেমন পুরো শরীর পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়, শিক্ষা খাত দুর্বল হলে পুরো জাতিই তার প্রভাব ভোগ করে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রিজভী। জাতীয় সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের নতুন কমিটির সদস্যদের নিয়ে সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

রিজভী বলেন, পরিবহন খাতকে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা থেকে বের করে নতুন পরিকল্পনায় ঢেলে সাজাতে হবে। এই খাতে মাফিয়াবৃত্তির অবসান ঘটানোর পাশাপাশি চাঁদাবাজি বন্ধে শ্রমিক ফেডারেশনকে সক্রিয় ও সোচ্চার ভূমিকা রাখতে হবে।

তিনি বলেন, নতুন কমিটির মাধ্যমে পরিবহন খাতের অনিয়ম ও মাফিয়াতন্ত্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা নেওয়া হবে বলে তিনি আশা করেন। দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে পরিবহন খাতকে আইনসঙ্গত ও সুশৃঙ্খল করা এবং যাত্রীসেবায় নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপনের কথাও বলেন তিনি।

রিজভীর ভাষায়, রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা বন্ধে রাজনীতিবিদদের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। দায়িত্বশীল রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা গেলে দীর্ঘ ১৭ বছরের নৈরাজ্যের অবসান ঘটানো সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় জাতীয় সড়ক পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নতুন সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম এবং সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম রাজুসহ সংশ্লিষ্ট নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট আয়োজিত শিক্ষক সমাবেশে বক্তব্য দেন রিজভী। সেখানে তিনি দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও নৈতিক ভিত্তি নিয়ে সমালোচনা করেন।

রিজভী অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময়ে গুণগত শিক্ষার চেয়ে পরীক্ষায় বেশি পাসের হার দেখানোর দিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। তাঁর দাবি, ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ পাসের হার দেখানোর রাজনীতি করা হয়েছে। এমনকি কোনো শিক্ষার্থী খাতায় উত্তর না লিখলেও তাকে পাস করিয়ে দিতে শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের ওপর চাপ দেওয়া হতো বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শিক্ষার অতিরিক্ত রাজনীতিকরণের কারণেও দেশের শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা। তাঁর অভিযোগ, বইয়ের পাতায় ব্যক্তির গুণকীর্তন ও ছবি প্রকাশকে গুরুত্ব দেওয়া হলেও শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষার বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব পায়নি।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষায় পাস করানো নয়, তাদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলার দায়িত্ব শিক্ষকদের নিতে হবে। কারণ শিক্ষাব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়লে তার প্রভাব শুধু বিদ্যালয় বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সীমাবদ্ধ থাকে না, পুরো জাতির ওপর পড়ে।

শিক্ষকদের উদ্দেশে রিজভী বলেন, নিজেদের ন্যায্য দাবি আদায়ের পাশাপাশি শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব দিতে হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি যুক্তরাজ্যের একটি ঐতিহাসিক ঘটনার উল্লেখ করেন এবং শিক্ষকদের দায়িত্বের বিষয়টি তুলে ধরেন।

শিক্ষকদের ন্যায্য দাবিদাওয়ার বিষয়ে বিএনপি সচেতন বলেও উল্লেখ করেন রিজভী। তিনি বলেন, বিএনপি সব সময় প্রতিশ্রুতি ও তা বাস্তবায়নের মধ্যে সমন্বয় করার চেষ্টা করেছে। দলের ভিশন ও পরিকল্পনায় শিক্ষকসমাজকে তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করা হবে না।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি ও কুমিল্লা-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী, সহঅর্থবিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান এবং শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের মহাসচিব চৌধুরী মুকিম উদ্দীন মাহমুদ বক্তব্য দেন।

দুটি অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে রিজভী একদিকে সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা, যাত্রীসেবা ও চাঁদাবাজি বন্ধের ওপর জোর দেন। অন্যদিকে শিক্ষাব্যবস্থায় রাজনৈতিক প্রভাব কমিয়ে শিক্ষার মান ও নৈতিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে