কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ১৩ বছর বয়সী এক মাদ্রাসা ছাত্রকে বলাৎকারের চেষ্টার অভিযোগ মারাকাজুল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল আশিকুল্লাহ(৪০)এর বিরুদ্ধে। অভিযোগ প্রকাশ জানাজানি হওয়ার পর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন স্থানীয়রা। পরে অভিযুক্ত প্রিন্সিপালকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার সময় পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদুর রহমানসহ কয়েকজন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে দৌলতপুর উপজেলার খলিশাকুন্ডিতে। অভিযোগকারী মাদ্রাসাছাত্র ফরহাদ (১৩) ওই এলাকার মালিথাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মিঠুর পুত্র ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে বুধবার রাতে মাদ্রাসায় ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ, বলাৎকার ও যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করা হয়েছেএমন অভিযোগ ওঠে। পরে শিক্ষার্থী বিষয়টি তার পিতাকে জানালে ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বৃহস্পতিবার বেলা ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে স্থানীয়রা অভিযুক্ত প্রিন্সিপালকে আটকে ঘিরে রাখে। খবর পেয়ে দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ অভিযুক্ত প্রিন্সিপালকে হেফাজতে নেওয়ার উদ্যোগ নিলে কয়েকজন বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি বাধা দেয়। এ সময় অভিযুক্তকে মারধরের চেষ্টা করা হলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এতে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। সংঘর্ষে ওসি খালিদুর রহমান সহ অন্তত ১০ জন আহত হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এদিকে স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, অভিযুক্ত প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে এর আগেও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের অভিযোগ উঠেছিল। শিক্ষার্থীর বাবা মিঠু বলেন লোকমুখে জানতে পারি, মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাঝেমধ্যেই আমার ছেলের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ করতেন। পরে ছেলেকে জিজ্ঞাসা করলে সে আমাকে বিস্তারিত জানায়। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই। অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মাদ্রাসা প্রিন্সিপাল আশিকুল্লাহর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি যশোর জেলার বাসিন্দা এবং কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ছাতিয়ান ইউনিয়নের আটি গ্রামে তার শ্বশুরবাড়ি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে দৌলতপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বৃহস্পতিবার রাতে।