নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কোটাকোল এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৭ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ একব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। আটককৃত যুবক তৈয়ব আলী মোল্লা (২৪) লোহাগড়ার মঙ্গলপুর উত্তরপাড়ার বালা মোল্ল্যার ছেলে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে বুধবার রাত ৯টার দিকে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তৈয়বকে আটক করে ডিএনসির সদস্যরা। নড়াইলের বড়দিয়া খেয়াঘাট থেকে গোপালগঞ্জের মধুমতী খেয়াঘাট পর্যন্ত ট্রলারযোগে যাত্রী পারাপারের পাশাপাশি দীর্ঘ আড়াই বছর ধরে তৈয়ব আলী গাঁজাসহ মাদক বেচাকেনা করে আসছে। এ কাজে তার আপন চাচাতো ভাই আকরাম মোল্লা (৪৬) সহযোগিতা করেন। তবে অভিযানের সময় আকরাম পলাতক ছিল।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নড়াইল জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক গোলক মজুমদার বলেন, তৈয়ব মোল্লা পেশায় ট্রলার চালক। তাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা নদীকেন্দ্রিক হওয়ায় তৈয়ব ও তার চাচাতো ভাই মিলে লোহাগড়ার তেলকাড়া, মহাজন ঘাট, কোটাকোল ঘাটসহ আশেপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক বেচাকেনা এবং চোরাচালান করে আসছে।
বুধবার রাতে খেয়াঘাটস্থ কোটাকোল বাইতুল ফালাহ দাখিল মাদরাসার সামনে পাকা রাস্তায় অভিযান চালিয়ে খয়েরি রংয়ের ব্যাগের মধ্যে টেপ দিয়ে মোড়ানো সাত পেটি গাঁজা উদ্ধার ও জব্দ করা হয়। প্রতি প্যাকেটের ওজন দুই কেজি ৫০০ গ্রাম করে মোট ১৭ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা পাওয়া গেছে। উদ্ধারকৃত গাঁজার মূল্য প্রায় সাত লাখ টাকা। গ্রেফতারকৃত তৈয়ব আলীর বিরুদ্ধে আগে মামলা ছিল না। তবে পলাতক আকরাম মোল্লার বিরুদ্ধে লোহাগড়া থানায় ২০১৯ সালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা রয়েছে। পলাতক আসামী আকরামকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।
এদিকে সাড়ে ১৭ কেজি গাঁজা জব্দের ঘটনায় তৈয়ব আলী ও আকরামকে আসামি করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ডিএনসির পরিদর্শক আব্দুল মান্নান বাদী হয়ে বুধবার রাত ২টার দিকে লোহাগড়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সবসময় মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে অভিযান অব্যাহত রাখবে বলে জানান জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক গোলক মজুমদার।