আবুধাবি টেস্টে তৃতীয় দিনের খেলা শেষে ৬ উইকেট হারিয়ে ২২৩ রানের সংগ্রহ তুলেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। সেঞ্চুরির খুব কাছে চলে গিয়েও হতাশ করেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত এবং মুশফিকুর রহিম। দুজনই ফিরেছেন ৮০ রানের কোটাতে। টাইগারদের লিড ৩২৯ রানের। ৩ উইকেট হারিয়ে ১২৪ রান নিয়ে চা বিরতির পর তৃতীয় সেশনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। চা বিরতির পর ফিফটি ছুঁয়েছেন মুশফিক। ফিফটির কাছাকাছি চলে গেছেন শান্তও। খোলস ছেড়ে বেরিয়ে দারুণ সব শটে রান বের করেছেন টাইগার অধিনায়ক। খেলেছেন চমৎকার সব সুইপ শটও। সাবলীল ব্যাটিংয়ে ফিফটি পেয়েছেন শান্তও। ৩০০ ছুঁয়েছে বাংলাদেশের লিড। কার্যকরী ব্যাটিংয়ে রান বের করেছেন মুশফিক এবং শান্ত। উইকেটের চারপাশে খেলেছেন দারুণ সব শট। তাতে দলের বোর্ডে রান বেড়েছে, লিডও বেড়েছে। সেঞ্চুরির দিকে ছুটেছেন মুশফিকুর রহিম। তবে বিদায় নিয়েছেন সেঞ্চুরির আগেই। ১৪৮ বলে ৮১ রান করে সাজঘরে ফিরে গেছেন মুশফিক। টিকে ছিলেন শান্ত। সেঞ্চুরির সুযোগ ছিল তার সামনেও। তবে একদম শেষ বিকেলে এসে শান্তও আউট হয়েছেন। ১৪৮ বলে ৮১ রান করে বিদায় নেন শান্ত। লিটন দাসের সাথে নাইটওয়াচম্যান হিসেবে নেমে টিকতে পারেননি হাসান মাহমুদ। ৬ বলে ১ রান করে হাসান বিদায় নেন। পরে মেহেদী হাসান মিরাজ নেমে দিনের শেষ বল মোকাবেলা করেছেন। ১৩ বলে ৫ রান করে টিকে আছেন লিটন। বাংলাদেশের লিড এখন ৩২৯ রানের। আফগানিস্তানের হয়ে ২টি করে উইকেট নেন জিয়াউর রহমান এবং ইয়ামিন আহমেদজাই। ১টি করে উইকেট তুলেছেন মোহাম্মদ সেলিম এবং কাইস আহমেদ। এর আগে দিনের শুরুতে আফগান ব্যাটারদের লাগামে টান দেওয়ার শুরুটা হয়েছিল এবাদতের এক ইনসুইং ডেলিভারিতে। দিনের তৃতীয় ওভারেই তার সেই দ্বিধান্বিত বলে বোল্ড হয়েছেন আগেরদিনের অপরাজিত ব্যাটার ইকরাম আলিখিল। তার ব্যাটে এসেছে ৩২ রান। আরেকপ্রান্তে আসা ব্যাটারদের যখন একের পর এক হাসান ফেরাচ্ছেন, তখন অপরপ্রান্তে দর্শক হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন রহমত। টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে হাসান হ্যাটট্রিক করেন দিনের চতুর্থ ওভারে। তিনি শুরুটা করেন ইসমত আলমকে (১) বোল্ড করে। তার নিচু হয়ে যাওয়া বলের লাইন বুঝতে পারেননি আফগান ব্যাটার। পরের দুই বলে ফেরানো ব্যাটাররা গোল্ডেন ডাক খেয়েছেন। প্রথমে কায়েস আহমেদের ব্যাটের কানা লেগে উইকেটের পেছনে ক্যাচ এবং হাসানের এলবিডব্লিউতে ফিরলেন জিয়া-উর-রেহমান। কায়েসের ক্যাচটি প্রায় প্রথম স্লিপারের বরাবর গিয়েছিল। উইকেটরক্ষক লিটন দাস ঝাঁপিয়ে পড়ে সেটি দারুণভাবে তালুবন্দি করেছেন। আর হ্যাটট্রিক পূর্ণ করা উইকেটটি আম্পায়ার প্রথমে দেননি, বাংলাদেশ দল সেটিকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ ভেবে আবেদন করে। পরে রিভিউ নেওয়ার পর দেখা যায় ভেতরে পায়ে লাগা বলটি অফ-মিডল স্টাম্প বরাবর আঘাত করত। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের তৃতীয় বোলার এবং প্রথম পেসার হিসেবে হ্যাটট্রিক করলেন হাসান। তার আগে দুই স্পিনার অলক কাপালি (২০০৩) ও সোহাগ গাজী (২০১৩) লাল বলের ক্রিকেটে হ্যাটট্রিক করেছিলেন। এ ছাড়া চলতি বছর টেস্টে এটি প্রথম এবং ফরম্যাটটির ইতিহাসে ৫০তম হ্যাটট্রিকের ঘটনা। সংযুক্ত আরব আমিরাতও প্রথম কোনো টেস্ট হ্যাটট্রিকের সাক্ষী হলো। অন্যদিকে, আফগানিস্তান তখন গভীর খাদে। আগের দিন ৮৪ রানে অপরাজিত রহমত শেষ চেষ্টা হিসেবে আক্রমণে গেলেন। চার-ছক্কার বাউন্ডারিতে টেস্টে চতুর্থ সেঞ্চুরিও তুলে নেন তিনি। এর আগে ইয়ামিন আহমদজাইকে ফিরিয়ে হাসান টেস্টে নিজের চতুর্থ ফাইফার পূর্ণ করেন। পরে তার এক ওভারে রহমত ১৪ রান নেওয়ার পর স্ট্রাইক প্রান্তে ব্যাটার বদলায়। আক্রমণে আসা এবাদতের প্রথম বলে সেলিম শফি উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতেই শেষ হয় আফগানদের ইনিংস। অধিনায়ক রহমত শাহ ১০৫ রানে থাকেন অপরাজিত।