রাজশাহীতে পৃথক ঘটনায় নারী ও পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ

এম এম মামুন; রাজশাহী | প্রকাশ: ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ০৪:০১ পিএম
রাজশাহীতে পৃথক ঘটনায় নারী ও পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ
রাজশাহীতে পৃথক স্থান থেকে নারী ও পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এরমধ্যে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে জিয়ারুল ইসলাম (৪৫) এবং নিজ রুম থেকে বেলী রাণী (৭০) নামের এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। বেলী রাণীর মৃত্যুর ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে থানায় নিয়েছে পুলিশ। রোববার (১১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর কেদুরমোড় এলাকায় বেলী রাণী (৭০) এবং একইদিন বিকেলে খড়খড়ি কমলাপুর এলাকায় জিয়ারুল ইসলামের (৪৫) মৃত্যু হয়েছে। জানা গেছে- নিহত বেলী রাণী রাজশাহী নগরীর কেদুরমোড় এলাকার ‘বেলী ভিলা’ নামের একটিবাড়ির দুই তলায় বসবাস করতেন। সেই রুম থেকে বেলী রাণীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত বেলীর শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। নিহত বেলী ওই এলাকার মৃত ফখরুদ্দীনের স্ত্রী। বেলীর চার সন্তান। এরমধ্যে একমেয়ে ও দুই ছেলে বিদেশে থাকেন। একছেলে তিনি ঢাকা থাকান। আর বাসার নিচ তলা অন্য ভাড়াটিয়া থাকতেন। তবে গেল দুই-তিন দিন থেকে বেলী বাইরে আসেননি। এনিয়ে প্রতিবেশীরা তাকে ডাকতে যান। তবে বন্ধ রুম থেকে পচা গন্ধ পান তারা। পরে তারা বিষয়টি পুলিশকে জানায়। পুলিশ এসে বেলীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে। এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক পুরুষসহ দুই নারীতে আটক করে থানায় নিয়েছে। আর মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য খুঁজতে কাজ করছে সিআডি টিম। এ বিষয়ে নগরীর বোয়ালিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাছুমা মুস্তারী বলেন- প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এটি হত্যাকাণ্ড। তবে কি কারণে হয়েছে। সেটি জানতে কাজ করছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে থানায় নেওয়া হয়েছে। মরদেহ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। এই ঘটনায় মামলা হবে। অপরদিকে, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মারামারির ঘটনায় জিয়ারুল ইসলাম (৪৫) নামের এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে পবা উপজেলার খড়খড়ি কমলাপুরে এই ঘটনা ঘটে। নিহত জিয়ারুল মৃত ওসমান আলী। তার খড়খড়িতে বাঁশের তৈরি আসবাবপত্র বিক্রির দোকান রয়েছে। জানা গেছে- নিহত জিয়ারুল ইসলাম ও অভিযুক্ত মিনারুল সম্পর্কে চাচাতো ভাই। তাদের পূর্ব পুরুষদের মধ্যে দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। এনিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে একাধিক বার মারামারি ঘটনাও ঘটেছে। এনিয়ে মামলাও চলমান রয়েছে। সবশেষ রোববার মিনারুল একজন ক্রেতাকে নিয়ে একই এলাকায় জমি বিক্রির জন্য দেখাতে নিয়ে যায়। বিষয়টা জানতে পারে জিয়ারুল পক্ষ। এরপরে উভয় পক্ষই একেঅপরে মারামরিতে জড়িয়ে যায়। এক পর্যায়ে জিয়ারুলকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে নওদাপাড়া ইসলামি ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে শারীরিক পরীক্ষা করে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ তার মরদেহ রামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়। আর মিনারুল আহত অবস্থায় রামেক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে এনিয়ে অভিযুক্ত মিনারুলের পরিবার জানায়- জিয়ারুকলে মারধর করা হয়নি। তিনি হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন বলে দাবি করেন। এ বিষয়ে নগরীর চন্দ্রীমা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন- বিষয়টা তদন্ত করা হচ্ছে। নিহতের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার জেলার সংবাদ পড়তে