তীব্র গরমে শরীর ও মনকে একটু সতেজ করতে পথের মোড়, সড়কের পাশে, গাছতলায় কিংবা শহরের ব্যস্ততম এলাকাগুলোতে গড়ে উঠেছে অসংখ্য শরবতের দোকান। তৃষ্ণার্ত মানুষের কাছে এসব দোকানের শরবত সাময়িক স্বস্তি দিলেও অপরিষ্কার পানি, নিম্নমানের বরফ, কৃত্রিম রং ও অনিরাপদ উপকরণ ব্যবহারের কারণে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে এমন তথ্য দিলেন সৈয়দপুরের একজন চিকিৎসক।
শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, শরবতের দোকানগুলোতে সাজিয়ে রাখা হয়েছে কলা, আম, বেল, লেবুসহ নানা ধরনের ফল ও উপকরণ। কোথাও মাটির বড় পাত্র, আবার কোথাও অ্যালুমিনিয়ামের পাত্রে রাখা হচ্ছে পানি। এসব পানিতে বিপুল পরিমাণ বরফ দেওয়া হচ্ছে। শরবত তৈরির সময় ফল বা অন্যান্য উপকরণের তুলনায় পানিই ব্যবহার করা হচ্ছে বেশি। সঙ্গে দেওয়া হচ্ছে বরফ, কৃত্রিম রং, দই, লেবু ও বিভিন্ন ধরনের ফ্লেভার।
অভিযোগ রয়েছে, অনেক দোকানে শরবত তৈরিতে ব্যবহৃত বরফ খাবার বা পানীয়ের জন্য নিরাপদ কি না, তা নিশ্চিত করা হয় না। একইভাবে শরবত তৈরির পানি সংরক্ষণ ও পরিবেশনের ক্ষেত্রেও স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। বরফ সংরক্ষণের পাত্র, গ্লাস এবং শরবত তৈরির সরঞ্জামও অনেক ক্ষেত্রে অপরিষ্কার অবস্থায় দেখা যায়।
চিকিৎসকদের মতে, দূষিত পানি ও অনিরাপদ বরফের মাধ্যমে শরীরে বিভিন্ন ধরনের জীবাণু প্রবেশ করতে পারে। এর ফলে ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েডসহ পানিবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। অপরদিকে অতিরিক্ত কৃত্রিম রং ও নিম্নমানের উপকরণ নিয়মিত গ্রহণ করাও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
শরবত বিক্রেতাদের অনেকেই অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ক্রেতাদের চাহিদার কারণেই বরফ ও বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করতে হয়। তবে বরফ বা পানি কোথা থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং তা পানীয় হিসেবে কতটা নিরাপদ এ বিষয়ে অধিকাংশ বিক্রেতার কাছেই সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। এদিকে স্বাস্থ্যসচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, প্রচণ্ড গরমে তৃষ্ণার্ত মানুষ দ্রুত ঠান্ডা হওয়ার আশায় এসব শরবত পান করছেন। কিন্তু শরবতের উপকরণ ও পানি কতটা নিরাপদ, তা যাচাই করছেন না। ফলে সাময়িক প্রশান্তির বিনিময়ে অনেকেই স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন।
সচেতন মহলের দাবি, জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত শহরের শরবতের দোকানগুলোতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা। বিশেষ করে পানির মান, বরফের উৎস, কৃত্রিম রং, ব্যবহৃত উপকরণের মান পরীক্ষা, খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তাদের মতে, তৃষ্ণা মেটানোর জন্য শরবত হতে পারে উপকারী ও স্বস্তিদায়ক একটি পানীয়। তবে তা অবশ্যই নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্যসম্মত বরফ ও মানসম্মত উপকরণ দিয়ে তৈরি হতে হবে। অন্যথায় তৃষ্ণা মেটাতে গিয়ে শরবতই মানুষের জন্য অসুস্থতার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।