৩ বিভাগ সফর শেষে ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী, কাল যাবেন খুলনা-বাগেরহাটে

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ০১:১০ পিএম
৩ বিভাগ সফর শেষে ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী, কাল যাবেন খুলনা-বাগেরহাটে

সুন্দরবন ও হিরণ পয়েন্ট পর্যবেক্ষণ, মোংলা নৌঘাঁটিতে সভা এবং মোংলা বন্দরের জেটি ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শনে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) খুলনা ও বাগেরহাট সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পর্যটন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা সরেজমিনে দেখতে তাঁর এ সফরকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে ঢাকায় ফেরার পরই প্রধানমন্ত্রীর খুলনা ও বাগেরহাট সফরের কর্মসূচি নির্ধারিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১টা ১০ মিনিটে সামরিক বিমানে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। এর আগে মহানবমীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করতে মঙ্গলবার সকাল ৯টায় ঢাকা থেকে রওনা হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিন বিভাগের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় তিনি ভক্ত, দর্শনার্থী ও আয়োজকদের সঙ্গে শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তাঁকে কাছে পেয়ে মণ্ডপগুলোতে উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে তাঁকে অভ্যর্থনা জানানো হয় এবং শারদ প্রণাম নিবেদন করেন তাঁরা।

সেই সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল, বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী এবং বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুণ্ডুসহ সরকারের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ও দলীয় জ্যেষ্ঠ নেতা।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ মো. উজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত সফরসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টায় নিজ বাসভবন থেকে তেজগাঁও বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হবেন তারেক রহমান। সকাল ৯টায় হেলিকপ্টারে যাত্রা করে সকাল ১০টায় সুন্দরবন ও হিরণ পয়েন্ট পর্যবেক্ষণ করবেন তিনি।

সকাল সাড়ে ১০টায় খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে হেলিকপ্টার অবতরণের কথা রয়েছে। সেখান থেকে নৌপথে বাগেরহাটের মোংলায় যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে লঞ্চে করে মোংলা নৌঘাঁটির উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে বানৌজা মোংলায় পৌঁছানোর পর মধ্যাহ্নবিরতি নেবেন তিনি। এরপর বেলা ১টা ৪৫ মিনিটে নৌঘাঁটির ওয়ার্ডরুমে একটি সভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সভায় খুলনার বিভাগীয় কমিশনার এবং খুলনা ও বাগেরহাটের জেলা প্রশাসকদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

সভা শেষে বিকেল ৩টায় মোংলা বন্দরের জেটি পরিদর্শন করবেন তারেক রহমান। বিকেল সাড়ে ৩টায় বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। সবশেষে বিকেল ৪টায় হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে বিকেল ৫টায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। বনটির জীববৈচিত্র্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পর্যটন সম্ভাবনা ঘিরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরে সুন্দরবন ও হিরণ পয়েন্ট পর্যবেক্ষণের মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলের সম্ভাবনা সরেজমিনে দেখার সুযোগ তৈরি হবে।

সুন্দরবনের পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকার উন্নয়ন, পর্যটন অবকাঠামো এবং দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা খানজাহান আলী বিমানবন্দর চালুর বিষয়টিও স্থানীয়দের প্রত্যাশার মধ্যে রয়েছে। তাঁদের আশা, প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের মধ্য দিয়ে উপকূলীয় অঞ্চলের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মোংলা বন্দর দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। বন্দরের জেটি পরিদর্শনের সময় এর বাণিজ্যিক কার্যক্রম ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বন্দরকেন্দ্রিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ হলে পণ্য পরিবহন, সরবরাহ ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে, বেজার প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘিরে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পরিকল্পিতভাবে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করা গেলে এ অঞ্চলে শিল্প ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের সুযোগ বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।

সুন্দরবনের পর্যটন সম্ভাবনা, মোংলা বন্দরের বাণিজ্যিক গুরুত্ব এবং প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলকে ঘিরে উন্নয়ন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। তবে এসব সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে সুন্দরবন, দাকোপ ও মোংলা বন্দর এলাকায় তিন স্তরের নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে। নির্ধারিত কর্মসূচি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর এ সফর শুধু পরিদর্শনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সুন্দরবন সংরক্ষণ ও পর্যটন উন্নয়ন, মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা এবং খানজাহান আলী বিমানবন্দর চালুর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগের পথ তৈরি করবে।

প্রকৃতি, বাণিজ্য ও শিল্প বিনিয়োগের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করার প্রত্যাশা করছেন তাঁরা।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে