নওগাঁর ধামইরহাটে প্রতিপক্ষের শত্রুতার বিষে ৭ কৃষকের প্রায় ১০ বিঘা জমির ধান পুড়ে গেছে। ক্ষতিকারক রাসায়নিক স্প্রে করে দরিদ্র কৃষকদের ধান বিনষ্ট করে ৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রাও। এ বিষয়ে ৭ জনকে আসামী করে ধামইরহাট থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে ভুক্তভোগী চানমুদ্দীন গং। ২৩ অক্টোবর সকালে একদল সাংবাদিক সরেজমিন রুপনারায়নপুর মাঠে গিয়ে ঘটনার সত্যতা দেখতে পান।
ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক ও মামলার বাদী রুপনরায়নপুর (নিকেশ্বর) গ্রামের মৃত আমির উদ্দিনের ছেলে চানমদ্দীন জানান, সে সহ অপর কৃষক মামুন হোসেন, আমিনুল, রিয়াজ, মিজানুর, মাসুদ ও মোমিন রুপনারায়নপুর মৌজায় জে,এল নং-১৮২ মোতাবেক ৭৬০ ও ২৫-২৩৪৫ নম্বর প্রস্তাবিত খতিয়ানভুক্ত ৩ দশমিক ১৭ একর সম্পত্তি ক্রয়সূত্রে প্রাপ্ত হয়ে চাষাবাদ করে আসছেন এবং আমন মৌসুমে যথারীতি ধান রোপন করেছেন। প্রতিপক্ষ একই গ্রামের নাসির উদ্দিনের ছেলে ওবায়দুল ইসলাম. এন্দাদুল ওরফে বিপ্লব, বাবু, সাবু এবং মুজাই ও এর ছেলে মোমিন ও খোকার ছেলে জিয়ারুল ইসলাম ২০ অক্টোবর রাতে ওই জমিতে রাসায়নিক স্প্রে করাকালে স্থানীয় মিজানুর তা দেখে ফেললে দুষ্কৃতিকারী প্রতিপক্ষ বিপ্লব গং প্রত্যক্ষদর্শী মিজানুর রহমানকে ধাওয়া দিলে সে প্রাণ ভয়ে জমিতে লুকায় ও পরবর্তীতে কৌশলে পালিয়ে আসে। পরদিন সকালে ঘটনার বিষয়টি মিজানুর জমির মালিক চানমদ্দীনকে জানায় এবং সে জমিতে গিয়ে সমস্ত ধান বিবর্ণ দেখতে পায়। রাসায়নিক স্প্রে করায় কৃষক চানমদ্দীন গং এর প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান। ইতিপূর্বেও বিপ্লব গং চানমুদ্দীন গংদের জমির আলু-সরিষা বিনষ্ট করার অভিযোগে চানমুদ্দীনের দায়েরকৃত মামলায় আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক তদন্তে বিপ্লব গং ইউপি চেয়ারম্যানের গ্রাম আদালতে দোষী সাব্যস্ত হন এবং জরিমানা প্রদান করেন।
১নং ধামইরহাট ইউপি চেয়ারম্যান এ টি এম বদিউল আলম বলেন,‘ চানমদ্দীনের মামলায় বিপ্লব গং স্বাক্ষ্যপ্রমানে দোষী হওয়ায় তাদের জরিমানা করা হয়েছিল এবং সম্প্রতি ধান পুড়িয়ে মারার ঘটনায় বিপ্লব গংকে চানমদ্দীনের সন্দেহ করাটা অমুলক নয়। ’
জমি-জমা নিয়ে আমাদেরকে চানমদ্দীন গং হয়রানি করছে এবং তাদের সাথে মামলা ও শত্রুতা রয়েছে মর্মে স্বীকার করে অভিযুক্ত বিপ্লব মুঠোফোনে (০১৭৩৫-৫৯০৫৫১) প্রতিবেদককে বলেন,‘ জমিটির দাবীদার আমরাই, তারা আমাদের জমিতে জোর করে ধান লাগিয়েছে এবং চানমুদ্দীন গং আমাদের মামলা দিয়ে হয়রানী করছে, আমরা কারও জমিতে স্প্রে করিনি, তারা আমাদের হয়রানী করতে মিথ্যা অভিযোগ করছে।’
ধামইরহাট থানার ওসি মো. মিন্টু রহমান বলেন,‘ কেউ সম্পত্তির আইনগত বৈধ মালিক হলে সে ফসল দাবী করতেই পারে, কিন্তু কারও ফসল ধ্বংস করা ফৌজদারী ও দন্ডনীয় অপরাধ, বাদী অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।