নদী বেষ্টিত গাইবান্ধায় নেই ডুবুরি, উদ্ধারে ভরসা কেবল রংপুর

এফএনএস গাইবান্ধা : | প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ০৭:৫১ পিএম
নদী বেষ্টিত গাইবান্ধায় নেই ডুবুরি, উদ্ধারে ভরসা কেবল রংপুর

নদ-নদী, পুকুর, খাল-বিল ও বিস্তীর্ণ জলাভূমিতে ঘেরা উত্তরের জেলা গাইবান্ধা। জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে যমুনা, ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তাসহ বিভিন্ন নদ-নদী। পাশাপাশি রয়েছে অসংখ্য পুকুর, খাল-বিল ও জলাশয়। এসব জলাশয়ে দুর্ঘটনা, নৌযানডুবি কিংবা পানিতে নিখোঁজের ঘটনায় উদ্ধার তৎপরতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা। অথচ জেলার সাতটি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কোনোটিতেই নেই ডুবুরি। ফলে পানিতে ডুবে যাওয়া ব্যক্তিকে উদ্ধার কিংবা নিখোঁজ কাউকে খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক সক্ষমতা নিয়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সূত্রে জানা গেছে, শুধু গাইবান্ধা নয়, রংপুর বিভাগের কোনো জেলাতেই আলাদা করে ডুবুরি পদ নেই। পুরো বিভাগের পানিতে উদ্ধার অভিযানের জন্য ভরসা বিভাগীয় পর্যায়ের মাত্র পাঁচজন ডুবুরি। সংশ্লিষ্টদের মতে, পানিতে ডুবে যাওয়ার ঘটনায় দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে পানিতে তলিয়ে যাওয়া ব্যক্তিকে উদ্ধারের ক্ষেত্রে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিতে হয়। কিন্তু দুর্ঘটনার পর দূরবর্তী স্থান থেকে ডুবুরি দল আসার অপেক্ষায় থাকতে হলে উদ্ধার অভিযান শুরু করতে বিলম্ব হতে পারে। এতে নিখোঁজ ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। সম্প্রতি গাইবান্ধা সদর উপজেলার বল্লমঝড় ইউনিয়নে আত্মীয়ের বাড়িতে দাওয়াত খেতে এসে ঘাঘট নদীতে গোসল করতে নেমেছিলেন নাজমুল হুদা নিয়ন (৪০)। কিন্তু নদীতে নেমে আর তীরে ফেরা হয়নি তাঁর। দীর্ঘ প্রায় ৫০ ঘণ্টা ধরে চলে খোঁজাখুঁজি ও উদ্ধার অভিযান। পরে গত ২৪ অক্টোবর নদী থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, নাজমুল নদীতে নিখোঁজ হওয়ার পরপরই গাইবান্ধা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে রংপুর থেকে ডুবুরি দল আসার জন্য যোগাযোগ করেন। পরে প্রায় তিন ঘণ্টা পর রংপুর থেকে ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, দুর্ঘটনার পরপরই ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারলে উদ্ধার তৎপরতা আরও দ্রুত শুরু করা সম্ভব হতো। তাঁদের মতে, নদীবেষ্টিত এ জেলায় ডুবুরি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসহ উদ্ধারকারী দল প্রস্তুত রাখা জরুরি। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, তাৎক্ষণিকভাবে ডুবুরি দল পাওয়া গেলে উদ্ধার অভিযান আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হতো। তাঁদের মতে, নদীতে কেউ নিখোঁজ হলে প্রতিটি মুহূর্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই উদ্ধারকারী দলকে দূরবর্তী জেলা থেকে আসার অপেক্ষায় থাকতে হওয়া দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দেয়। গাইবান্ধার নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলে পানিতে ডুবে যাওয়া এবং নৌদুর্ঘটনার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি। বর্ষা মৌসুমে নদীর স্রোত, পানির গভীরতা ও নদীভাঙনের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এ ছাড়া গ্রামাঞ্চলের পুকুর, ডোবা ও খাল-বিলে শিশুদের পানিতে ডুবে যাওয়ার ঘটনাও প্রায়ই উদ্বেগ তৈরি করেছে ।এসব ঘটনায় দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য স্থানীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষিত ডুবুরি, আধুনিক সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় জনবল থাকা জরুরি বলে মনে করছে জেলা বাসী। গাইবান্ধা জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ইয়ুথ চিফ বিষ্ণু রায় জানান ," ‘আমাদের এলাকায় নদী আছে, খাল-বিল আছে, অসংখ্য পুকুরও রয়েছে। পানিতে কেউ নিখোঁজ হলে দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করা দরকার। কিন্তু ডুবুরি না থাকায় অন্য জেলা থেকে দল আসার অপেক্ষা করতে হয়। এতে মূল্যবান সময় নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। প্রতিটি ফায়ার স্টেশনে অন্তত প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত উদ্ধারকর্মী ও সরঞ্জাম থাকা উচিত।’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে গাইবান্ধা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স দপ্তরের উপ-সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসান বলেন, " ডুবুরি সংকটের বিষয়টি আমরা উধ্বর্তন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি আশা করছি খুব শীঘ্রই জেলা সদর স্টেশনে ডুবুরি সংযুক্ত করা হবে "

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে