যুব সমাজের জন্য রোল মডেল সংগঠক আমিনুল হক সাদী

এফএনএস (আমিনুল হক সাদি; কিশোরগঞ্জ) : | প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ০৬:৫৩ পিএম
যুব সমাজের জন্য রোল মডেল সংগঠক আমিনুল হক সাদী

বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান, সামাজিক উন্নয়ন এবং স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমে দীর্ঘদিনের অবদানের মাধ্যমে কিশোরগঞ্জে একজন সফল আত্মকর্মী থেকে তিনবারের শ্রেষ্ঠ যুব সংগঠক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন আমিনুল হক সাদী। ২০০৪ সালের ভয়াবহ বন্যার সময় কর্মসংস্থানের সন্ধানে কিশোরগঞ্জ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, সরকার বেকার যুবকদের বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দিয়ে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিচ্ছে। পরে তিনি কিশোরগঞ্জ যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে গবাদিপশু পালন, হাঁস-মুরগি, ডেইরি ফার্ম, কৃষি ও প্রাথমিক চিকিৎসার ওপর তিন মাসের আবাসিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ শেষে তিনি নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি বেকার যুবকদের নিয়েও কাজ শুরু করেন। ২০১০ সালে যুব জাগরণে সক্রিয় ভূমিকা রেখে প্রতিষ্ঠা করেন ‘যুব উন্নয়ন পরিষদ’। পরবর্তীতে ২০২০ সালে সংগঠনটি কিশোরগঞ্জ জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিবন্ধন লাভ করে। বর্তমানে তিনি সংগঠনটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষাজীবনে কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী গুরুদয়াল সরকারি কলেজ থেকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে ২০১৯ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। সরকারি চাকরির পেছনে না ছুটে সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিস থেকে ৬০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে গড়ে তোলেন ‘সাদী সমন্বিত কৃষি খামার’। সেই উদ্যোগই পরবর্তীতে তার আত্মকর্মসংস্থানের ভিত্তি হয়ে ওঠে। যেকেনো দুর্যোগ মোকাবেলায় স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে পালন করেন অনন্য ভূমিকা। জাতীয় যুব দিবসসহ রাষ্ট্রীয় দিবস সমূহ উদযাপন ও যুব নেতৃত্বে রাখেন বিরাট অবদান। সামাজিক কাজের স্বীকৃতিস্বরুপ ১০০ শত জন গুনী ব্যক্তিকে  সংগঠনটির উদ্যোগে সম্মাননা ক্রেস্টও প্রদান করেছেন। সাদীর সংগঠনের মাধ্যমে ধাপে ধাপে ৩ হাজার বেকার যুব ও যুব নারীকে প্রশিক্ষণের আওতায় এনেছেন। তন্মধ্যে ৩ শতাধিক যুবককে স্বাবলম্বী করে তোলেছেন। সাদীর প্রচেষ্টায় এলাকার ১০জন বেকার যুবকের সরকারী-বেসরকারী চাকুরীতে কর্মসংস্থান হয়েছে। বিদেশে আরও ১০জন বেকারকে কর্মসংস্থানের সহযোগিতা করেছেন। করোনাকালে ১ হাজার দারিদ্র মানুষকে করোনার টিকা বিনামূল্যে রেজি: করে দিয়েছেন। ১০ হাজার মাস্ক হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও বিপুল পরিমান ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছেন। ২০২৪-২০২৫ এ শতাধিক শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে টাইফয়েড টিকাদানের নিবন্ধন করে দিয়েছেন। গ্রামে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করে স্বাস্থ্যসেবাও রেখেছেন অনন্য অবদান। কয়েক শতাধিক দরিদ্র ও ৫জন প্রতিবন্ধীদেরকে হুইল চেয়ার প্রদান, ১০জন নারীকে সেলাই মেশিন প্রদানসহ কয়েক লক্ষাধিক নগদ অর্থ বিতরণ করেছেন। ১০ হাজার শীতার্তদেরকে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছেন।  শতাধিক শিশুকে বিনামূল্যে পাঠদান করে গ্রামীণ পর্যায়ে শিক্ষার  আলো ছড়িয়ে দিয়েছেন। যুবদের জন্য যুব প্রশিক্ষণ সেন্টার, শিশুদের জন্য গণশিক্ষা কার্যক্রম, বয়স্কদের জন্য বয়স্ক শিক্ষা কার্যক্রমও পরিচালনা করেন। ব্যক্তি উদ্যোগে মহিনন্দ ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ নামের একটি পাঠাগারও প্রতিষ্ঠা করেছেন। এ পাঠাগারে ৫  হাজার বইয়ের মাধ্যমে উপকার পাচ্ছে গ্রামীণ সমাজ। অবসর সময়ে  শিশু থেকে কিশোর বয়স্কসহ সকল শ্রেণি পেশার পাঠকরা বই পড়ে জ্ঞানের আলো বিকিরণ করছেন। পাঠাগারের মাধ্যমে সাহিত্য সভাসহ সামাজিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতাসহ নানা অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করেন। ইতিমধ্যে তাঁর রচিত ৬টি বইও প্রকাশিত হয়েছে। কিশোরগঞ্জ জেলা পর্যায় থেকে শুরু করে জাতীয়ভাবে শতাধিক  সভা সেমিনারে ট্রেনিং ওয়ার্কশপে অংশ গ্রহণ করে প্রবন্ধ উপস্থাপন ও সার্টিফিকেট  অর্জন ও সম্মাননাও পেয়েছেন। আন্তর্জাতিক যুব সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ সামিটের সদস্যসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে যুবদের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। আমিনুল হক সাদী স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে খেলাধুলা, বিতর্ক, রচনা প্রতিযোগিতা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে অংশ গ্রহণ করে পেয়েছেন শতাধিক পুরস্কার ও সনদ। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কর্তৃক আয়োজিত প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করে জেলার মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করে ক্রেষ্ট ও প্রাইজবন্ড পেয়েছেন। এছাড়াও অনেক সামাজিক সাংস্কৃতিক সাহিত্যিক এবং সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় ৫০টি সনদ ও পুরস্কার লাভ করেছেন। যুবকর্মে অনন্য অবদান রাখায় তিনবার জেলায় শ্রেষ্ঠ সংগঠক হিসেবে সম্মাননা সনদও পেয়েছেন। সংগঠনের কার্যক্রমের মাধ্যমে এলাকায় ব্যাপকভাবে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সমাজকর্মী আমিনুল হক সাদীর সফলতা দেখে এলাকার বেকার যুবরাও কর্মসংস্থানের দিকে ধাবিত হচ্ছে। কিশোরগঞ্জ জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম শামীম বলেন, ‘আমিনুল হক সাদীর নেতৃত্বে পরিচালিত ‘যুব উন্নয়ন পরিষদ’ যুব সমাজের জন্য একটি রোল মডেল। তার কর্মপরিকল্পনা, পাঠাগার নির্মাণ এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বেকারদের জীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। আমি তার সার্বিক সফলতা ও কল্যাণ কামনা করি।’

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে