নওগাঁর মহাদেবপুরে পল্লীমঙ্গল কর্মসূচি পিএমকে নামক এনজিওর মাঠকর্মীর বিরুদ্ধে ক্ষুদ্রঋণের কিস্তির টাকা না দেয়ার জের ধরে সদস্যাকে রাতে একা বাড়িতে পেয়ে জুতা দিয়ে মারপিট ও নানাভাবে শ্লীলতাহানির অভিযোগ করা হয়েছে। ওই সদস্যা এব্যাপারে থানায় অভিযোগ দায়ের করে বিপাকে পড়েছেন। স্থানীয় বিভিন্ন মহল থেকে এব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা না নেয়ার জন্য নানাভাবে হুমকি ধামকি দেয়া হচ্ছে। এমনকি বিষয়টি মিমাংশা না হওয়ায় ওই এনজিওতে কর্মরত অন্য একজন সদস্যাকে চাকরিচ্যুতও করা হয়েছে। কিন্তু জুতা পেটা ও শ্লীলতাহানির দায়ে অভিযুক্ত মাঠকর্মীর বিরুদ্ধে কোনই ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এই ঘটনার বিচার চেয়ে ভুক্তভোগি সদস্যা দিনের পর দিন দ্বারে দ্বারে ধর্না দিচ্ছেন।
উপজেলার সদর ইউনিয়নের ফাজিলপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসকারী আবু হোসেন বাবুর স্ত্রী সাহারা বেগম (৩৫) অভিযোগ করেন যে, তিনি মহাদেবপুর পল্লীমঙ্গল কর্মসূচি পিএমকে নামক এনজিও থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নেন। প্রতিসপ্তাহে ৪৬ কিস্তিতে পরিশোধযোগ্য ঋণের ৩০টি কিস্তি ইতোমধ্যেই পরিশোধ হয়েছে। কিন্তু তার স্বামী বিদেশ যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে চলে গেলে সাহারা বেগম ঋণের তিনটি কিস্তি দিতে পারেননি। গত ৩১ মে রাত সাড়ে ৯টায় তিনি যখন তার আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে একা ছিলেন, তখন পল্লীমঙ্গল কর্মসূচি পিএমকের মাঠকর্মী মজনু ইসলাম সাহারার ঘরে ঢুকে ঋণের কিস্তি দিতে বলেন। সাহারা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে মজনু তাকে নানান অকথ্যভাষায় গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে মজনু সাহারাকে কিল ঘুষি মারেন, তার এক পায়ের চামড়ার জুতা দিয়ে সাহারাকে মারপিট করেন। সাহারার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এলে মজনু ঘর থেকে এক পায়ে জুতা নিয়ে বেরিয়ে আসেন। এসময় সাহারার ঘরের বাইরে ওই এনজিওর ম্যানেজার উজ্জল রায় উপস্থিত ছিলেন।
সাহারা এব্যাপারে মহাদেবপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু থানা পুলিশ বিষয়টি মামলা হিসেবে রেকর্ড না করে গত ২৩ জুন থানা প্রাঙ্গনে এক বৈঠকের আয়োজন করেন। বৈঠকে সাহারার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলেও থানার এসআই আছির উদ্দিন তা মিমাংশা করতে বলেন। কিন্তু সাহারা পক্ষ মিমাংশায় রাজি না হলে বৈঠক ভেস্তে যায়। ঘটনার প্রায় এক মাসেও পুলিশ মামলাটি এন্ট্রি করেনি।
ভূক্তভোগি সাহারা জানান, এর আগে তার স্বামী এনজিওর টাকা নিয়ে বিদেশ যাওয়ার জন্য সাহারার বাড়ি ছেড়ে চলে গেলে সাহারা এব্যাপারে থানায় অভিযোগ দেন যে, তার স্বামী ঋণের কিস্তির টাকা না দিয়ে চলে গেলে সাহারা ওই টাকা দিতে পারবেন না। থানা পুলিশের মধ্যস্থতায় তখন সাহারার স্বামী বাবু ঋণের কিস্তির টাকা নিয়মিত পরিশোধের অঙ্গীকার করেন। কিন্তু পরে আর কিস্তি দেননি।
এই ঘটনার জের ধরে এনজিও পিএমকে তাদের অফিসে ভাত রাঁধার কাজে কর্মরত পাখী বেগম নামে এক সদস্যাকে চাকরিচ্যুত করেছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি সাহারাকে ঋণ দিতে সুপারিশ করেছিলেন। এখন সাহারা যাতে আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে বিষয়টি মিমাংশা করেন সে দায়িত্ব তাকে দেয়া হয়। পাাখী বেগম তা করতে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। চাকির হারিয়ে গরীব পাখী বেগম তার দুই মেয়েকে নিয়ে চরম হতাশায় দিন যাপন করছেন। তিনি ও সাহারা এর সুরাহার জন্য দ্বারে দ্বারে ধর্না দিচ্ছেন।
জানতে চাইলে, পল্লীমঙ্গল কর্মসূচি পিএমকের ম্যানেজার উজ্জল রায় বলেন, মাসের শেষ দিন ঋণের কিস্তি ছেড়ে কেউ নারীর শ্লীলতাহানি করতে যায়না। সাহারার স্বামী অন্যত্র বসবাস করেন। তার কাছে কিস্তি চাইতে গেলে তিনি নিজেই সাহারার কাছে যেতে বলেন। একারণে রাতে সাহারার কাছে তারা যান। কিন্তু সাহারা কিস্তির টাকা না দিয়ে তার মাঠকর্মীকে ঝাটা নিয়ে মারতে আসেন।