ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-৪ (চরফ্যাশন ও মনপুরা) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন। তার এই বিজয় শুধু নির্বাচনী ফলাফল নয়, বরং এলাকায় দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, প্রচারণার কৌশল এবং ভোটারদের আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকেই নয়ন জোর দেন নিরাপত্তা ও সমঅধিকারের বার্তায়। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, দল ক্ষমতায় এলে বর্তমানে যারা তার সঙ্গে আছেন তারা যেমন নিরাপদ থাকবেন, তেমনি যারা তার সঙ্গে নেই তারাও সমানভাবে নিরাপদ থাকবেন। তার এই বক্তব্য রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলে। বিশেষ করে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশে এমন আশ্বাস ভোটারদের মধ্যে আস্থা তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখে। নির্বাচনের সময় একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে নারীদের উদ্দেশে ধর্মীয় আবেগঘন প্রচারণা চালানোর অভিযোগ ওঠে। জান্নাতের টিকিট দেওয়ার মতো প্রতিশ্রুতি ছড়িয়ে প্রথমদিকে কিছু নারী ভোটারের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হলেও পরবর্তীতে ব্যাপক ইতিবাচক প্রচারণার মাধ্যমে পরিস্থিতি বদলে যায়। ধানের শীষের প্রার্থীরা স্পষ্ট বার্তা দেন যে কোনো দল বা প্রতীকে ভোট দিলেই ধর্মীয় পুরস্কার লাভের সুযোগ নেই। এতে নারী ভোটারসহ সাধারণ মানুষ বিষয়টি অনুধাবন করেন এবং যুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্তে ফিরে আসেন।
অন্যদিকে, গত বছরের ৫ আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে একধরনের শঙ্কা দেখা দেয় বলে স্থানীয়রা জানান। অনেকেই ভাবছিলেন, রাজনৈতিক পালাবদলের ফলে তাদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে বিএনপির নেতাকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে হিন্দু পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেন, সাহস জোগান এবং নিরাপত্তার আশ্বাস দেন। মন্দির পাহারার ব্যবস্থা, দুর্গাপূজাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবে সরাসরি উপস্থিতি ও সহযোগিতা সংখ্যালঘুদের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেয়। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, এসব কার্যক্রমের ফলে হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশ ধানের শীষ প্রতীকে একচেটিয়া সমর্থন দেন। তারা বিশ্বাস করেন, ভবিষ্যতেও তাদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকবে বিএনপি। এই আস্থাই নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। এছাড়া নয়নের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন শক্তিশালী করা এবং নিয়মিত গণসংযোগ তার পক্ষে কাজ করে। চরফ্যাশন ও মনপুরা অঞ্চলের বিভিন্ন সামাজিক-অর্থনৈতিক সমস্যা নিয়ে তার অবস্থান এবং উন্নয়ন প্রতিশ্রুতিও ভোটারদের আকৃষ্ট করে। সব মিলিয়ে নিরাপত্তা, সম্প্রীতি, ইতিবাচক প্রচারণা, সংখ্যালঘু ও নারী ভোটারদের আস্থা অর্জন এবং শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তির সমন্বয়ে ভোলা-৪ আসনে বিপুল ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন। উল্লেখ্য, গত ১২ই ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-৪(চরফ্যাশন ও মনপুরা) আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ১, ৮৯,৩৫১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী দাড়িপাল্লা প্রতীক এর প্রার্থী অধ্যক্ষ মোঃ মোস্তফা কামাল ভোট পেয়েছেন৮১,৪৩৭ ভোট।