কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মো. কামরুল হাসান মারুফ বলেছেন, ইমামরা ইসলামের প্রচারক, ইমামদেরকে সমাজ অনুস্মরণ করে। শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড এবং শিক্ষকরা হলেন সেই মেরুদণ্ড গড়ার প্রধান কারিগর। আপনারা সমাজে ইমাম এবং ইফার শিক্ষক হিসেবে গুরু দায়িত্ব পালন করছেন। আপনাদের মাধ্যমে ধর্ম শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে সমাজ। আর এতে করে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে, তাই ইমামদেরকেও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যে চলতে হবে। ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে নেই, মাদকের কুফল নিয়ে মসজিদে বয়ান করবেন। অন্য ধর্মাবলম্বীদের গালি দেবেন না, ধর্মীয় উস্কানিমূলক কিছু বলবেন না। সর্বদায় সাম্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখবেন, কেউ কোনো গুজবে কান দেবেন না। ইসলামে জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসের কোনো স্থান নেই। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ কোনো রাষ্ট্র, জাতি ও সমাজের কল্যাণ বয়ে আনতে পারেনি, পারবেও না। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জনগণকে সচেতন হতে হবে। পরস্পরে মারামারি রেষারেষি না হয় সে দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে, ইসলাম শান্তির ধর্ম, একজন মানুষ যত ধার্মিক হবে, সে তত নম্র হবে, যে আলেম যত বেশি জানবে সে তত বেশী জ্ঞানী হবে। কিশোরগঞ্জ সদরে ‘নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ উন্নয়নে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম’ শীর্ষক প্রকল্পের শিক্ষক ও কেয়ারটেকারদের মাসিক সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর ২০২৬) উপজেলা সম্প্রসারিত কমপ্লেক্সে মিলনায়তনে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সদ্য যোগদানকৃত ইফার উপপরিচালক কিশোরগঞ্জের জামাই হাফেজ মাও. মোস্তাফিজুর রহমান তাঁর বক্তব্যে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করার বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন। পাশাপাশি সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনের বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে শিক্ষক ও কেয়ারটেকারদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়। সন্ত্রাস, নারী ও শিশু নির্যাতন,বাল্যবিবাহ, মাদকাসক্তি ও ইভটিজিংয়ের মতো সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে শিশুদের আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে মসজিদভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ কার্যক্রম সফল করতে শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের আহ্বান জানান তিনি। সভায় ইফার সদর উপজেলার সুপার ভাইজার শফিকুল আলম সারওয়ারের সঞ্চালনায় এবং জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক হাফেজ মাও. মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। অনুষ্ঠানে ইফার প্রকল্পের নানা দিক তুলে ধরে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন কিশোরগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের ফিল্ড সুপারভাইজার ডক্টর মাও. কামরুল হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার স্বাগত সাম্য। অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন ইফার মডেল কেয়ারটেকার হাফেজ মাও. মোঃ মাছুম বিল্লাহ। আলোচনায় অংশ নেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন কিশোরগঞ্জ জেলার মাস্টার ট্রেইনার মাও ওমর ফারুক , সাধারণ কেয়ারটেকার হাফেজ মাও, হুমায়ুন কবীর, মাও.আব্বাছ আলী,মাও. সাদেকুজ্জামান খন্দকার, মাও.মাহতাব উদ্দিন, বাংলাদেশ মউশিক শিক্ষক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি হাফেজ ইমরুল হাসান, সাধারণ সম্পাদক মাও.আমিনুল হক, সদর শাখার সাধারণ সম্পাদক মাও. রফিকুল ইসলাম প্রমুখ। এ সময় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও বিভিন্ন মসজিদের ইমামগণ উপস্থিত ছিলেন।