ঘণ কুয়াশার কারণে সারাদেশে সবধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ১১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ'র সহকারী পরিচালক মো. সোলাইমান এবং বিআইডব্লিউটিএ'র চাঁদপুরের উপপরিচালক (নৌ-নিট্রা) বাবু লাল বৈদ্য।
সূত্রমতে, নদীতে কুয়াশার ঘনত্ব হঠাৎ বেড়ে গেছে। এ কারণে শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টা থেকে ঢাকা, চাঁদপুর, ভোলা, বরিশালসহ সারাদেশে সবধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। লঞ্চগুলো চলার পথে যে যেখানে অবস্থান করছে, ওইস্থানে নদীর পাড়ে লঞ্চগুলো নোঙ্গর করে রাখার জন্য বলা হয়েছে। কুয়াশা কেটে গেলে ফের চলাচল স্বাভাবিক হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পৌনে দুইটার দিকে ঘণ কুয়াশার মধ্যে মেঘনা নদীর চাঁদপুরের হরিনাঘাটা নামকস্থানে ভোলা থেকে ঢাকাগামী যাত্রীবাহি জাকির সম্রাট-৩ লঞ্চের সাথে বরিশালের ঝালকাঠিগামী অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চের সংঘর্ষ হয়। এতে দুই লঞ্চের কমপক্ষে ৩০ জন যাত্রী আহত এবং চারজন যাত্রী নিহত হয়।
এছাড়াও একইদিন রাতে মেঘনা নদীর চাঁদপুরের আমীরাবাদ নামক এলাকায় ঈগল-৪ লঞ্চের ধাক্কায় দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে ঢাকা থেকে বরিশালগামী যাত্রীবাহি এম খান-৭ লঞ্চ।
সদর ঘাট নৌ-পুলিশের দায়িত্বশীল একটি সূত্রে জানা গেছে-বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ঘণ কুয়াশার কারনে ১৩টি লঞ্চ একটি বাল্কহেডের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে যাত্রীবাহি অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চের সাথে যাত্রীবাহি জাকির সম্রাট-৩ এর সংঘর্ষে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতিসহ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও যাত্রীবাহি এম খান-৭ লঞ্চের সাথে ঈগল-৪। মানিক-১ এর সাথে বন্ধন-৫। এমভি মোনাজাতের সাথে অগ্রদূত প্লাস। সুন্দরবন-১৬ লঞ্চের সাথে বাল্কহেডের সংঘর্ষ হয়। এতে বাল্কহেড ডুবে যায়। ডুবুরিয়ার নদীতে নিমজ্জিত বাল্কহেড থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে।
এছাড়া সুরভী-৭ এর সাথে ফারহান-৯ এবং কর্নফুলী-১২ লঞ্চের সাথে সম্রাট-৭ লঞ্চের সংঘর্ষের ঘটনায় লঞ্চগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হলেও কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।