লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৬:৪২ পিএম
লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন থানা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যালয় থেকে লুণ্ঠিত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র এখনো উদ্ধার না হওয়ায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিতের আবেদন করা হয়েছে। ভোটার ও প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে নির্বাচন আয়োজন করলে তা গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করবে এমন আশঙ্কা থেকেই এই রিট করা হয়েছে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান জনস্বার্থে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করেন। এতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক এবং র‍্যাবের মহাপরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে।

রিট আবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন থানা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যালয় থেকে পাঁচ হাজার সাতশ পঞ্চাশটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ছয় লাখ একান্ন হাজার ছয়শ নয় রাউন্ড গোলাবারুদ লুট হয়। সরকার অস্ত্র উদ্ধারে পুরস্কার ঘোষণা করলেও এখনো এর বড় একটি অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

আইনজীবী মাহমুদুল হাসান আবেদনে উল্লেখ করেন, এই বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে থাকায় আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ভোটার ও প্রার্থীদের জীবন চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। তিনি ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনার কথা তুলে ধরে বলেন, এই ঘটনা প্রমাণ করে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না হলে নির্বাচন সহিংস হয়ে উঠতে পারে।

রিটে আরও বলা হয়, সরকার কিছু প্রার্থীর জন্য গানম্যানের ব্যবস্থা করলেও সাধারণ ভোটারদের নিরাপত্তার জন্য কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে করে দেশের আপামর জনগণের নিরাপত্তা উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহর বক্তব্য উদ্ধৃত করে রিটে বলা হয়, নির্বাচন কমিশন নিজেই স্বীকার করেছে যে নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা অত্যন্ত জরুরি। এই বাস্তবতায় নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত না করে ভোটগ্রহণ আয়োজন করা হলে তা সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভোটার ও প্রার্থীদের মৌলিক অধিকার, অর্থাৎ জীবনের অধিকার লঙ্ঘনের শামিল হবে।

এই কারণে রিট আবেদনে লুণ্ঠিত সব আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত এবং সার্বিকভাবে নিরাপদ নির্বাচন পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত রাখার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে