বিএনপি-জামায়েতর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

শরণখোলায় সাবেক ছাত্রদল নেতা হত্যা, থানায় মামলা, গ্রেপ্তার ৩

এফএনএস (সাবেরা ঝর্ণা; শরণখোলা, বাগেরহাট) : | প্রকাশ: ২ মার্চ, ২০২৬, ০৫:৩৭ পিএম
শরণখোলায় সাবেক ছাত্রদল নেতা হত্যা, থানায় মামলা, গ্রেপ্তার ৩

বাগেরহাটের শরণখোলায় প্রতিপক্ষের হামলায় আরিফুল ইসলাম মাসুম (৩০) নামে সাবেক এক ছাত্রদল নেতার মৃত্যু হয়েছে। তিনি রবিবার (১মার্চ) রাত ১১টার দিকে উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের সুন্দরবনসংলগ্ন খুড়িয়াখালী গ্রামের পিলের রাস্তা এলাকায় হামলার শিকার হন। ওই রাতে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় সাগর হাওলাদার নামে আরো এক বিএনপি সমর্থক আহত হয়েছেন। পুলিশ নিহতের মরদের উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বাগেরহাট হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে ১৬ জনকে আসামী করে সোমবার (২মার্চ) দুপুরে শরণখোলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ তিন জনকে আটক করেছে। এ ঘটনার পর বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) আশরাফ উল্লাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছেন। নিহত আরিফুল ইসলাম মাসুম খুড়িয়াখালী গ্রামের মৃত বিএনপি নেতা আব্দুল মজিদ হাওলাদারের ছেলে। মাসুম মালয়েশিয়া প্রবাসী ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কয়েকদিন আগে মালয়েশিয়া থেকে বাড়িতে আসেন। পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে খলিল বয়াতী, তানজের বয়াতী ও শাহজালাল বয়াতী নামে মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে। উপজেলা বিএনপি ও পরিবারের দাবি, স্থানীয় জামায়াত-শিবিেিরর নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে আরিফুল ইসলাম মাসুমের ওপর হামলা চালায়। ঘটনার সময় (রাত সাড়ে ১১টার) মাসুম তার শশুর বাড়ি থেকে দাওয়াত খেয়ে স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। এসময় পূর্ব থেকে ওৎপেতে থাকা সন্ত্রাসীরা তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে এলোপাতাড়ি মারপিট করেন। তার ডাকচিৎকারে পরিবারের লোকজন ও স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। এ ব্যাপারে শরণখোলা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ বেল্লাল হোসেন মিলন বলেন, বাগেরহাট-৪ আসনে জামায়াত প্রার্থী এমপি নির্বাচিত হওয়ায় তারা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। আমাদের বিএনপির নেতাকর্মীদের মারধর করেছে। নির্বাচনের পরের দিন নিহত ছাত্রদল নেতা আরিফুল ইসলাম মাসুম তার মোবাইলে একটি সহিংস ঘহটনার ভিডিও ধারণ করায় তার ওপর ক্ষীপ্ত ছিল জামায়া-শিবিরের নেতাকর্মীরা। তারই জের ধরে এই নৃসংশ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে । হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানান এই বিএনপি নেতা। অপরদিকে সাইথখালী ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওলানা মোশাররফ হোসেন বলেন, ঘটনার সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বিএনপির অভিযোগ সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। শরণখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. নাইম বলেন, আরিফুল ইসলাম মাসুম নামের এক ব্যক্তিকে রাত সাড়ে ১১ টার দিকে আহত অবস্থায় জরুরি বিভাগে আনা হয়। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পরে তার অবস্থা কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। পরে তাকে ভর্তি করে বেডে পাঠানো হলে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। ধারণা করা হচ্ছে পরবর্তীতে কার্ডিয়াক অ্যাটাকে তার মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরে কিছু আঘাতের চিহ্নও দেখা যায়। তবে পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। শরণখোলা থানার ওসি শামিনুল হক বলেন, ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এঘটনায় নিহতের ভাই শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে ১৬ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এজাহারভুক্ত তিন আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ দিকে উপজেলা জামায়াতের সংবাদ সম্মেলন হত্যাকাণ্ডে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের জড়িত থাকার যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ কাল্পনিক দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছে জাময়াতেৎ ইসলামী। বিএনপির এমন ভিত্তিহীন অভিযোগের প্রতিবাদে উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম কবির বলেন, একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জামায়াতের ওপর ঘটনার দায় চাপানোর অপচেষ্টা করছে। উক্ত ঘটনায় শরণখোলা উপজেলা জামায়াত-শিবিরের নূন্যতম কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ঘটনায় যে সকল ব্যক্তির নাম উল্লেখ বা মামলা করা হয়েছে তাদের কারো সাথেই জামায়াত বা শিবিরের সম্পর্ক নেই। আমরা খোঁখবর নিয়ে জেনেছি পারিবারিক সমস্যার জের ধরে এই অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে। উপজেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং প্রকৃত দোষীদেও বিচার দাবি করি। পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে