ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম বলেছেন, যদি এ দেশে কুরআনের শাসন প্রতিষ্ঠিত থাকতো, তবে শান্তির জন্য আমাদের রাজপথে বারবার আন্দোলন করতে হতো না; বরং শান্তি আমাদের ঘরের দরজা ভেঙে প্রবেশ করতো। ইসলামই শান্তি ও মুক্তির একমাত্র গ্যারান্টি। বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর নিউমার্কেটস্থ ‘বাইতুর রহিম জামে মসজিদ’ কমপ্লেক্সে আয়োজিত ‘ইসলামী সমাজ গঠনে মাহে রমজানের গুরুত্ব’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নিউমার্কেট থানা শাখার সভাপতি আলহাজ্ব মুহাম্মদ আবুল কাশেম-এর সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারী মাওলানা কামাল হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আলহাজ্ব আব্দুল আউয়াল মজুমদার, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা কেএম শরীয়াতুল্লাহ, অর্থ ও প্রকাশনা সম্পাদক আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম খোকন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি আব্দুল আহাদসহ স্থানীয় ওলামায়ে কেরাম ও থানা পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে আহমদ আবদুল কাইয়ূম উন্নত বিশ্বের অপরাধ প্রবণতার তুলনা টেনে বলেন, পৃথিবীর যেখানেই কুরআনের বিধান যতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে, মানুষ ততটুকুই সুফল পেয়েছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান থেকে শিক্ষা না নিয়ে আমরা আবারো সেই পুরোনো ও ব্যর্থ বন্দোবস্তের দিকেই ফিরছি। প্রচলিত সকল মতবাদের পরীক্ষা শেষ, এখন কেবল ইসলামই শান্তি ও মুক্তির একমাত্র গ্যারান্টি। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আলহাজ্ব আব্দুল আউয়াল মজুমদার বিগত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যে দেশের ৯২ শতাংশ মানুষ মুসলমান, সে দেশের সংসদে কুরআনের আইন নেই। এর চেয়ে বড় আক্ষেপের বিষয় আর কিছুই হতে পারে না। বিগত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আমরা বিন্দুমাত্র হতাশ নই। কারণ আমরা কেবল দুনিয়াবি জয়-পরাজয়ের জন্য নয়, বরং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রাজনীতি করি। আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রাখাই মূল কাজ; আল্লাহ চাইলে দুনিয়ায় বিজয় দেবেন, নতুবা আখেরাতে জান্নাত দান করবেন। মাওলানা কে.এম শরিয়াতুল্লাহ তার বক্তব্যে বলেন, পবিত্র কুরআনের ঘোষণা অনুযায়ী, যে জাতি নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের চেষ্টা করে না, আল্লাহও তাদের অবস্থার পরিবর্তন করেন না। যুগের পর যুগ আন্দোলন-সংগ্রাম করেও আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি কারণ আমরা বারবার ভুল নেতৃত্বকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করেছি। শাসকরা ক্ষমতায় গিয়ে নিজেদের আখের গোছালেও সাধারণ মানুষ আজীবন বঞ্চিতই থেকেছে। তাই সময় এসেছে যোগ্য ও খোদাভীরু নেতৃত্বকে বেছে নিয়ে কুরআনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার। অনুষ্ঠানের শেষে দেশ, জাতি ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত শেষে কয়েকশ' মুসল্লি ও নেতাকর্মী একসাথে ইফতারে শরিক হন।