শিয়া-সুন্নীর বিভেদ নয়, সকলে ইরান ও ফিলিস্তিনীদের পাশ দাড়ান : গোলাম মোস্তফা

প্রেস বিজ্ঞপ্তি | প্রকাশ: ১৪ মার্চ, ২০২৬, ০৮:২৭ পিএম
শিয়া-সুন্নীর বিভেদ নয়, সকলে ইরান ও ফিলিস্তিনীদের পাশ দাড়ান : গোলাম মোস্তফা

‘আল কুদস দিবস এমন এক সময় উপনিত হয়েছে যখন ইরানের উপর চলছে ইঙ্গ-মার্কিন আধিপত্যবাদী শক্তির আগ্রাসন, অব্যাহত রয়েছে ফিলিস্তিনে ইহুদিবাদী ইসরাইলের পাশবিকতা। এই অবস্থায় মুসলামানদের মাঝে শিয়া-সুন্নীর বিভেদ সৃষ্টি না করে সকলকে ইরান ও ফিলিস্তিনিদের পাশে দাড়াতে হবে। যারা সঙ্কটের এই মুহুর্তে শিয়া-সুন্নী নামে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে মুসলমানদের মাঝে তৃক্তরা সৃষ্টি করতে চাচ্ছে তারা মূলত: সাম্রাজ্যবাদী শক্তির দালাল। তারা নিজেদের বিবেককে পেট্রোডলারের কাছে বন্দক রেখেছে’ বলে মন্তব্য করেছেন ভয়েস অব কনসাস সসিটিজেন (ভিসিসি) চেয়ারম্যান, কলাম লেখক ও রাজনীতিক বিশ্লেষক মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা ভুইয়া। শনিবার (১৪ মার্চ) সংগঠনের কার্যালয়ে ভয়েস অব কনসাস সিটিজেন (ভিসিসি) সুপ্রিম কাউন্সিলের সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘ইঙ্গ-মার্কিন সাম্রজ্যবাদী অশুভ শক্তি বর্বর হামলা চালিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনিকে হত্যা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। ইরানের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের কর্তৃত্বকে লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের এই হামলা বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতার ওপর চরম আঘাত। এর ফলশ্রæততে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে যেভাবে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ছে, তার পরিণতি হতে পারে ভয়াবহ। পবিত্র রমজান মাসে এই হামলার মধ্য দিয়ে অবৈধ রাষ্ট্র ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের সন্ত্রাসী রূপের আবারও বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘ফিলিস্তিনের নিপীড়িত জনগণের পাশে থেকে সহযোগিতা করা এবং মুসলমানদের প্রথম কেবলা আল-আকসা মুক্তির সংগ্রামে ভূমিকা রাখার কারণেই ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছে। পবিত্র রমজান মাসের পবিত্র পরিবেশে মুসলিম উম্মাহ গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শাহাদাতকে। আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ছিলেন ইসলামী মূল্যবোধ, ন্যায়বিচার এবং নিপীড়িত মানুষের অধিকার রক্ষার এক বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। তার সংগ্রামী জীবন, নেতৃত্ব এবং আত্মত্যাগ মুসলিম উম্মাহকে অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা জোগায়।’ গোলাম মোস্তফা ভুইয়া ‘অবিলম্বে ইরান, ফিলিস্তিনসহ সব সামরিক আগ্রাসন বন্ধ, কূটনৈতিক সমাধানের পথে অগ্রসর হওয়া এবং জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘ইরানের ওপর এই বর্বর হামলা কেবল একটি আঞ্চলিক সামরিক ঘটনা নয়; এটি সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর আধিপত্যবাদী রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ। ইরানে চলমান উত্তেজনা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সম্ভাবনাকে উসকে দিচ্ছে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, সাম্রাজ্যবাদী প্রতিদ্বন্দ্বিতা যখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়, তখন তার পরিণতি হয় ভয়াবহ বৈশ্বিক সংঘাত।’ সভায় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সুপ্রিম কাউন্সিলের সদস্য বিশিষ্ট সংগঠক আকবর মোহাম্মদ, সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব কাওসার আলী, নারী সংগঠক মিতা রহমান, বিশিস্ট সুফী মুহম্মদ সুমন মিয়া, সংগঠক জাহিদুল ইসলাম, লেখক আহমেদ রফিক প্রমুখ। 

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে