ভালুকা উপজেলার খীরু নদীর উপর কাঠ-বাঁশের সেতু দিয়ে বহুকাল থেকেই পারাপার করছে দুই পারের ১০ গ্রামের মানুষ। বিভিন্ন সরকারের সময়ে ভালুকার উন্নয়নে নদী ও খালের উপর ব্রিজ কালর্ভাড করা হলেও নজর পড়েনি অবহেলিত নদীর দুই পারে বসবাসরত ১০ গ্রামের মানুষের দিকে। ব্রীজের কারনে নানা দুর্ভোগের স্বীকার হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। এলাকাবাসী খিরু নদীর উপর পনাশাইল বাজার ঘাটে পাকা ব্রীজ নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রী হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। এলাকাবাসী জানায়,শুকনা মৌসমে শুধু বাঁশ দিয়ে ইজারাদারের তৈরী সাঁকো দিয়ে নদী পারাপার করেন। মানুষ ছাড়া আর কিছু পার করা সম্ভব হয় না। জমিতে উৎপাদিত কৃষিপণ্য মাথায় নিয়ে সাঁকো পার হতে হয়। কয়েক বছর আগে এখানে বাঁশ আর কাঠ দিয়ে সেতু তৈরী করে দেয়া হয়েছে। সেতুর উপর দিয়ে কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন ধরনের মালামাল পরিবহন করা যয় না। ফলে, কৃষকরা উৎপাদিত কৃষিপণ্য সরাসরি বাজারে নিয়ে বিক্রি করতে না পেরে অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ভালুকা সদর কাছে হলেও ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার ঘোরে রোগী নিয়ে ভালুকা হাসপাতালে যেতে হয়। বিভিন্ন সুত্রে জানাযায়,বাঁশের সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিয়মিত পারাপার হয় উপজেলার ভালুকা, হবিরবাড়ি ও রাজৈ ইউনিয়নের কমপক্ষে ১০টি গ্রামসহ অন্যান্য এলাকার হাজার হাজার মানুষ। ভালুকা-উরাহাটি পাকা সড়কের পাশে খিরু নদী ঘেষা নদীর এক পারে রয়েছে পনাশাইন নামে একটি বড় বাজার। বাজারটি জমিদারী আমল থেকে এলাকার মানুষের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসা কেন্দ্র। বর্ষাকালে ওই স্থানে কাঠ-বাঁশের সেতু থাকে না। তখন মানুষ নৌকার গোদারা দিয়ে পারাপার করতে হয়। আবার বর্ষাকাল শেষ হলে শুকনো মৌসুমে নৌকার গোদারা বন্ধ হয়ে যায়। তখন স্থানীয় ইজারাদারের তৈরি বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার করতে হয়। প্রতিবার পারাপারে জন্য ইজারাদারকে টাকা দিতে হয়। যানবাহন পারাপারের কোন ব্যবস্থা নেই। নদীর একপাশে রয়েছে-আশকা উচ্চ বিদ্যালয়,কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পনাশাইল দাখিল মাদ্্রাসা,কয়েকটি কিন্ডার গার্টেন স্কুল, বাজার ও ভূমি অফিস। বর্ষাকালে ওখানে নৌকা ডুবির ঘটনাও ঘটে। জরুরী ভিত্তিতে একটি পাকা ব্রীজ নির্মান হওয়া দরকার। উপজেলা প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান জানান, উপজেলার পনাশাইল বাজার ঘাটে খিরু নদীর উপর একটি ‘ওয়াই টাইপ’ ব্রীজ নির্মানের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশল অফিস থেকে প্রয়োজনীয় যাবর্তীয় তথ্যাদি উর্ধ্বতন কতৃপক্ষ বরাবরে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন ও বরাদ্ধ প্রাপ্তী স্বাপেক্ষে ব্রীজের কাজ শরু হবে।