ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার কাহালগাঁও বাজারে পূর্ব বিরোধের জেরে বাজারে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসী হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় এক কোটি টাকার উপরে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে বাজার ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন । এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা বাজারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় বক্তারা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানায়, মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাত প্রায় ১০টার দিকে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত দুটি আলম এশিয়া গাড়ি ও একটি পিকআপে করে বাজারে এসে হামলাকারীরা ১৫ থেকে ২০টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় এবং গুলিবর্ষণ করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এ সময় একটি প্রাইভেটকার ও ১১টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। এর মধ্যে ৬টি মোটরসাইকেল লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এছাড়া বাজারের একাধিক দোকান ও এজেন্ট ব্যাংকিং এ ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে মাহফুজ মেডিকেল হল, ভাই ভাই ট্রেডার্স, এন এইচ এন্টারপ্রাইজ, সজিব টেলিকম, মা সুইটস এবং ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট ব্যাংকিং শাখা। ব্যবসায়ীদের দাবি, প্রতিটি দোকানে গড়ে প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহনের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৬০ লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় এক কোটি টাকার উপরে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী রুবেল জানান, হামলার সময় তিনি দোকানের সামনে ছিলেন। সেখান থেকে ১১০ সিসির একটি হোন্ডা মোটরসাইকেল পিকআপে উঠিয়ে নিয়ে যায়। আমার দোকানের ক্যাশ নিয়ে যায়। ঘটনাটি সিনেমাকেও হার মানিয়েছে। ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট শামীম জানান, তার এজেন্ট ব্যাংকিং শাখা থেকে নগদ প্রায় ৫ লাখ টাকা লুট করা হয়েছে। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সদস্য আব্দুল করিম সরকার, ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান কবীর হোসেন তালুকদার, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন, কাজী সাইফুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, ছাত্রদল নেতা জহিরুল ইসলাম সুজন, নাজমুল হক, ফরহাদ হোসেন, সাইফুল ইসলাম সাইদসহ স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ। বক্তারা অভিযোগ করেন, এটি একটি পরিকল্পিত হামলা এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। তারা বাজারে নিরাপত্তা জোরদারেরও দাবি করেন। জেলা বিএনপির সদস্য জননেতা আব্দুল করিম সরকার বলেন, এটি পরিকল্পিত হামলা। যারা জড়িত, তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। বাজারে নিরাপত্তা জোরদার না করলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। এদিকে ঘটনার পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশ এ ঘটনার সাথে জড়িতের অভিযোগে চার জনকে আটক করেছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।