বিচ্ছিন্ন দুই একটি ঘটনা ছাড়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের স্থগিতকৃত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। সকাল থেকেই কেন্দ্রগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটারদের ভিড় দেখা যায়। এর মধ্যে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল বেশি। দীর্ঘদিন পর ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পেরে তাদের মধ্যে আনন্দ বিরাজ করছিল। কিন্তু উল্টো ছিল দুপুরের চিত্র। দুপুরের সময় অনেক কেন্দ্র ফাঁকা পড়ে থাকতে দেখা যায়। নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন ৫০.৫২ শতাংশ ভোটার। নির্বাচনের প্রথম কয়েক ঘণ্টায় বড় ধরনের কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতিতে ভোটাররা লাইনে দাঁড়িয়ে শান্তিপূর্ণভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। সকাল ১১টার দিকে শ্রীবরদী উপজেলার লংপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগে ছয় যুবককে আটক করেন ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার আব্দুর রউফ। আটক ব্যক্তিরা হলেন,জহিরুল, মাসুদ রানা, খোকন, পিপুল, আরিফুল ও লাইজু মিয়া। একই অভিযোগে ঝগড়ার চর উচ্চ বিদ্যালয়ে দুই জন বিএনপি কর্মীকে আটক করা হয়। শ্রীবরদী সরকারি কলেজ মাঠে বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে গিয়ে ইটপাটকেলের আঘাতে দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এদিকে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে শেরপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াত ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মো. মাসুদুর রহমান। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকাল ৩টার দিকে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান প্রার্থী নিজেই। মাসুদুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, বিভিন্ন কেন্দ্রে জালভোট ও প্রকাশ্যে সিল দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কয়েকটি কেন্দ্র থেকে আমার এজেন্ট বের করে দেওয়া ও মারধর করা হয়েছে। আগে থেকে অভিযোগের পরও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন। বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেন । তিনি বলেন, কোনো কেন্দ্রেই সিলমারা বা এজেন্ট বের করে দেয়ার মত ঘটনা ঘটে নাই। এমনে কোনো ছবি বা ভিডিও ফুটেজ কেউ দেখাতে পারবেনা। নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরাপত্তার বলয় তৈরি করছিল তা নজিরবিহীন। আমরা আরো দুই-তিনদিন আগেই জানতে পেরেছিলাম নির্বাচনের দিন জামায়াত দুপুর ১ টার দিকে ভোট বর্জন করবে। নিশ্চিত পরাজয় জেনেই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে জামায়াত ভোট বর্জন করেছেন বলেও জানান তিনি শেরপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন জানিয়েছেন, ভোট বর্জনের ব্যাপারে লিখিত কোনো অভিযোগ তারা পাননি। তিনি বলেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যভাবে সম্পন্ন করতে ১৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট,২ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট,নির্বাচন কমিশনের ১৮ জন পর্যবেক্ষক, এবং নির্বাচনী অনুসন্ধান (ইনকোয়ারি) কমিটির ৩ জন যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর ৮টি মোবাইল টিমে ২০০-এর অধিক সদস্য, ১৬ প্লাটুন বিজিবি সদস্য, র্যাবের ১৪টি টিম এবং পুলিশের প্রায় ১ হাজার ১৫০ সদস্য মোতায়েন ছিলেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে এখানেও ভোটগ্রহণের কথা ছিল। কিন্তু ভোটের প্রচারের সময় জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মু. নুরুজ্জামান বাদল মারা যান। এতে এ আসনের ভোটগ্রহণ স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন।